মানস সরোবরে মুগ্ধ রাহুল

রাহুল গান্ধী। ছবি: রয়টার্স
রাহুল গান্ধী। ছবি: রয়টার্স

মানস সরোবরে নীল আকাশের নিচের শান্ত জলরাশি মুগ্ধ করেছে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধীকে। তিনি বলেছেন, সরোবরের জল এত শান্ত আর পবিত্র যে দেখলে হৃদয় উজাড় হয়ে যায়।

এক টুইট বার্তায় রাহুল তাঁর এই ভালো লাগার অনুভূতি দেশবাসীর সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন।

রাহুল গত ৩১ আগস্ট হিমালয়ের কোলের তীর্থভূমি কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবর তীর্থযাত্রা শুরু করেন। নেপাল হয়ে তিনি পাড়ি জমান কৈলাসে। ১২ দিনের কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবর যাত্রায় তিনি গতকাল বুধবার পৌঁছান মানস সরোবরে। সংবাদমাধ্যমে বলছে, তীর্থে পা দিতে রাহুল ৬০ কিলোমিটার পথ হেঁটেছেন।

রাহুল তাঁর টুইটে লিখেছেন, ‘যখন ঈশ্বর ডাকেন, তখনই কৈলাসে আসা যায়। এমন অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে আমি মুগ্ধ। মানস সরোবরের পবিত্র জল সবকিছু উজাড় করে দেয়। বিনিময়ে কিছুই নেয় না। সবাই এই জল পান করতে পারেন। এখানে কোনো ঘৃণা নেই। এই কারণেই এই জলের পুজো হয়।’

কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবর হিন্দু-বৌদ্ধ-জৈন ধর্মাবলম্বীদের অতি পবিত্র তীর্থস্থান। এই তীর্থভূমির অবস্থান হিমালয়ের কৈলাস পর্বতের মানস সরোবরজুড়ে। সেই তীর্থস্থানেই গেলেন ‘শিবভক্ত’ রাহুল।

মানস সরোবর। ছবি: সংগৃহীত

রাহুলের মানস সরোবর তীর্থযাত্রা নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। গত মঙ্গলবার বিজেপি অভিযোগ করে, নেপালের এক রেস্তোরাঁয় আমিষ খেয়ে তীর্থযাত্রা করেছেন রাহুল।

তবে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের কথা ঠিক নয়। এ কথা মিথ্যা।

রেস্তোরাঁর বক্তব্যের পর বিজেপি আর এই ইস্যুতে এগোতে পারেনি।

কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে যাওয়ার সময় রাহুলকে বহনকারী বিমান আকাশে যান্ত্রিক সমস্যায় পড়ে। তারপর অবশ্য নির্বিঘ্নেই বিমান অবতরণ করে। রাহুল ওই সময় মানত করেন, কর্ণাটকের ভোটপর্ব মিটলে তিনি কৈলাসধাম ও মানস সরোবর তীর্থে যাবেন।

মানত পূরণের জন্য রাহুল যথারীতি নিয়ম মেনে সংসদ কোটায় মানস সরোবর যাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করেন। কেন্দ্রীয় সরকার রাহুলকে মানস সরোবরে যাওয়ার অনুমতি দেয়। এরপর রাহুল নেপাল হয়ে মানস সরোবর যাত্রা করেন।

হিমালয়ের কৈলাস পর্বতের পাদদেশে ঐতিহাসিক মানস সরোবর। ৪১০ কিলোমিটার বিস্তৃত ও ১৫ হাজার ৬০ ফুট উঁচুতে এই সরোবরের অবস্থান। সরোবরের সর্বাধিক গভীরতা ৩০০ ফুট। সরোবরের জল স্বচ্ছ ও পবিত্র। তবে শীতকালে অঞ্চলটি বরফে ঢাকা থাকে।