
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এক মহান নেত্রীর নাম। অগ্নিযুগের বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের শিষ্য। ব্রিটিশ পরাধীনতার হাত থেকে ভারতকে মুক্ত করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তিনি। চট্টগ্রামের পাহাড়তলির ইউরোপিয়ান ক্লাবে মাস্টারদা সূর্য সেনের নির্দেশে তিনি তাঁর বাহিনীর ১৫ জন সদস্য নিয়ে আক্রমণ করেছিলেন। এই আক্রমণের পর তিনি ব্রিটিশ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য নিজের কাছে থাকা সায়ানাইড খেয়ে জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর।
চট্টগ্রামের এই ইউরোপিয়ান ক্লাবের সামনে একটি সাইনবোর্ডে লেখা ছিল কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষিদ্ধ। এই সাইনবোর্ড দেখে সেদিন মাস্টারদার নির্দেশে আক্রমণ করা হয়েছিল ইউরোপিয়ান ক্লাবে। এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।
এই বিপ্লবী নারীর জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশের চট্টগ্রামের পটিয়া থানার ধলঘাট গ্রামে। চট্টগ্রাম ও ঢাকায় পড়াশোনার পর তিনি আসেন কলকাতার বেথুন কলেজে। এখান থেকেই তিনি দর্শনে ডিস্টিংশন নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি পেয়ে ফিরে যান চট্টগ্রামে। চাকরিও নেন একটি বিদ্যালয়ে। এরপরেই তিনি বিপ্লবী মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে যোগ দেন মাস্টারদার দলে।
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩২ সালে স্নাতক হওয়ার পর ১৯৩৩ সালের ২৫ মার্চ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল স্নাতক ডিগ্রির সনদ। কিন্তু তিনি আর সেই ডিগ্রি নিতে পারেননি। এর আগেই তিনি চলে যান চিরতরে। ব্রিটিশ সরকারও তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেয়নি সেই সনদ। এরপরে এই সনদ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দাবি তোলে চট্টগ্রামের বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ট্রাস্ট। দাবি তোলে বেথুন কলেজও। এরপরেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রীতিলতার সেই স্নাতক পাসের সনদ ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট হলে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের দুই কর্মকর্তা যথাক্রমে হেড অব চ্যান্সারি বি এম জামাল হোসেন ও প্রথম সচিব (প্রেস) মোফাকখারুল ইকবালের হাতে তুলে দেন প্রীতিলতার স্নাতক পাসের সনদসহ নম্বরপত্র।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘১৯৩২ সালে স্বাধীনতাসংগ্রামী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের স্নাতক পাসের পর সনদ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময় এই সার্টিফিকেট নেওয়ার কেউ ছিল না। তাই কারও হাতে তুলে দিতে পারিনি। আজ বাংলাদেশের উপহাইকমিশনের হাতে এই সার্টিফিকেট তুলে দিতে পেরে আমরা গর্ববোধ করছি।’
সনদ পাওয়ার পর হেড অব চ্যান্সারি জামাল হোসেন বলেছেন, ‘এই সনদ আমরা চট্টগ্রামের বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ট্রাস্টের হাতে তুলে দেব।’ প্রেস সচিব মোফাকখারুল ইকবাল বলেন, ‘একজন বীরকন্যার সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে পেরে আমরা গর্ববোধ করছি। আমরা বীরকন্যা বিপ্লবী প্রীতিলতার আত্মার মঙ্গল কামনা করছি।’