পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন মজবুত করার লক্ষ্যে তাদের শাখার সংখ্যা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করতে চলেছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। সেই লক্ষ্যপূরণে দুর্গাপূজার আগেই রাজ্যে ১০ হাজার শাখা গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সংঘ। এই তথ্য সম্প্রতি বিজেপিঘেঁষা সংবাদপত্র যুগশঙ্খ তাদের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। আরএসএসের শাখা তাদের শক্তির একেবারে তলার দিকের মৌলিক ভিত্তি। এখানে নানা ধরনের শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা হয়, যেখান থেকে সংগঠনে কর্মী নিয়ে আসা হয়। একেবারে নতুন কেউ যদি আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত হতে চান, তবে শাখার মাধ্যমেই তিনি তা করেন, অনেকটা কমিউনিস্ট পার্টির মতো।
যুগশঙ্খ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিগত বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই পশ্চিমবঙ্গে কাঠামোগত বদলে পদক্ষেপ নেয় সংঘ। তাদের হিসাব বলছে, চলতি বছরের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে সংঘের প্রায় ৫ হাজার শাখা ছিল। আগামী ১০ অক্টোবর; অর্থাৎ দুর্গাপূজার আগেই সেই সংখ্যা এবার দ্বিগুণ করে ১০ হাজারে নিয়ে যাওয়ার একটা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে আগামী ১ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে একাধিক গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন সদস্য এবং স্বয়ংসেবকদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সংঘ।
দক্ষিণবঙ্গে সংঘের প্রান্ত প্রচার বিষয়ের বিপ্লব রায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সাংগঠনিক কাজকর্ম চালানোর উদ্দেশে পশ্চিমবঙ্গকে তিনটি ‘প্রান্ত’; অর্থাৎ অংশে ভাগ করা হয়েছে। সংগঠন বৃদ্ধি এবং রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে এই ‘প্রান্ত’। এবার সেই ব্যবস্থার বদল হতে চলেছে।
এবার সংঘের সাংগঠনিক কাজ পরিচালনার জন্য পশ্চিমবঙ্গকে মোট পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হচ্ছে, যার প্রতিটি চিহ্নিত করা হয়েছে ‘সম্ভাগ’ নামে। এই প্রক্রিয়ায় মোট পাঁচটি সম্ভাগ তৈরি করা হবে বলে ঠিক হয়েছে। জানা গেছে, সংঘের কাজে সুবিধা করতে রাজ্যকে ভাগ করা হচ্ছে উত্তরবঙ্গ, বর্ধমান, নবদ্বীপ, মেদিনীপুর ও কলকাতা সম্ভাগে।
গোটা ভারতে বর্তমানে আরএসএস গঠিত মোট ৪৪টি প্রান্ত রয়েছে। এবার সম্পূর্ণ সাংগঠনিক বদলের ফলে সেগুলোর অবলুপ্তি ঘটিয়ে মোট ১১০টি সম্ভাগে ভাগ করা হবে।
জানা গেছে, এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন সংঘপ্রধান মোহন ভাগবত। আগামী ৮ অক্টোবর তাঁর রাজ্যে আসার কথা। বর্ধমানে তাঁর যাওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পত্রিকাটি। আরএসএস সূত্র উদ্ধৃত করে আরও জানানো হয়েছে, ভাগবতের সফরে সাংগঠনিক নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হবে বলে ঠিক হয়েছে। এ ছাড়া রাজ্য সংগঠনের পরিধি বাড়ানোর উদ্দেশ্যেও বেশ কিছু কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।