
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ‘বাঙালিভক্ত’ হিসেবে পরিচিত রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আকস্মিক পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের কারণ জানা যায়নি। তবে তিনি গতকাল বিকেলে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র দেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। এখন পশ্চিমবঙ্গের অস্থায়ী রাজ্যপালের দায়িত্ব পালন করবেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবি।
কলকাতার রাজ্যপালের দপ্তর ‘লোকভবন’–এর অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি রাজ্যপালের পদত্যাগের কথা নিশ্চিত করেছেন। রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস বাংলা ভাষাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তাই তিনি এই কলকাতায় এসে বাংলা ভাষা শেখার জন্য হাতেখড়িও নিয়েছিলেন। এমনকি তিনি কেরালা থেকে তার ভোট পশ্চিমবঙ্গে স্থানান্তর করেছিলেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নামও উঠেছিল।
রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের পদত্যাগে স্তম্ভিত হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এ খবর পাওয়ার পর লিখেছেন, ‘আমি স্তম্ভিত ও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই মুহূর্তে তাঁর পদত্যাগের কারণ জানা নেই। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাজ্যে আসন্ন বিধানসভার নির্বাচনের প্রাক্কালে কিছু রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য রাজ্যপাল যদি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চাপের মুখে পড়েন, তবে আমি অবাক হব না’। তিনি আরও লেখেন, ‘এই ধরনের পদক্ষেপ সংবিধানের চেতনাকে ক্ষুণ্ন করে এবং আমাদের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিতকে আঘাত করে। তাই কেন্দ্রকে সহযোগিতামূলক ও রাষ্ট্রীয় রীতিনীতিকে সম্মান করতে হবে। গণতান্ত্রিক রীতিনীতি মানতে হবে এবং রাজ্যগুলোর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে—এমন এরতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।’
কেন রাজ্যপাল পদত্যাগ করলেন, তার কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে নির্বাচনের আগে তাঁর এ পদত্যাগ নানা গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে। বিজেপির এক নেতা বলেছেন, স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন। ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্ব নেন। মেয়াদ ফুরানোর ১৮ মাস আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন।
এর আগের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও পদত্যাগ করে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও তিনি বেশি দিন না থেকে উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।