সিআইডির দল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কলকাতায় বাসভবনে পৌঁছার পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ১২ জুন ২০২৬, পশ্চিমবঙ্গ
সিআইডির দল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কলকাতায় বাসভবনে পৌঁছার পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ১২ জুন ২০২৬, পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গে মমতার ভাইপো অভিষেকের বাড়িতে ইডির তল্লাশি

ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের। দুর্নীতির অভিযোগে তাঁদের বাসাবাড়িতে চালানো হচ্ছে তল্লাশি। আজ শনিবার ভোরে ইডি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো, তৃণমূল নেতা ও দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। সেখানে সুমিত রায় নামে এক ব্যক্তিকে ধরতে এই অভিযান বলে জানা গেছে।

ইডির পক্ষ থেকে দাবি করা করা হচ্ছে, জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা ইডির জেরায় তাঁর আপ্ত সহায়ক হিসেবে সুমিত রায়ের নাম বলেছেন। এই সুমিত জমির দালালি করতেন।

ইডির দাবি, সুমিত রায় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে আশ্রয় নিয়েছেন বলে ইডির কাছে এসেছে। এরপরই ইডি সুমিত রায়ের মুঠোফোনের অবস্থান পরীক্ষা করে দেখতে পায়, তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে আত্মগোপন করে আছেন।

এরপরই ইডি আজ ভোরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের সহায়তায় অভিষেকের বাসভবনে গিয়ে বাড়ির তালা ভেঙে তল্লাশি চালায়। তবে তারা সেখানে সুমিত রায়ের খোঁজ পায়নি বা ধরতে পারেনি। অথচ গতকালও সুমিত রায় তৃণমূল নেতা অভিষেককে দেওয়া ইডির নোটিশ গ্রহণ করে তা অভিষেককে দিয়ে সই করিয়ে ইডির কাছে পৌঁছে দেন।

ইডি দাবি করেছে, সুমিত রায়ের মতো তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘুষ নিতেন বলে তাদের কাছে অভিযোগ এসেছে।

তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের উত্তর চব্বিশ পরগনার কামারহাটি ও কলকাতার ভবানীপুরের কাশারিপাড়ার বাসভবনে তল্লাশি চালানোর সময় নিরাপত্তা বাহিনী বাড়িরে বাইরে অবস্থান নেয়। ১৩ জুন ২০২৬, পশ্চিমবঙ্গ

এ ছাড়া ইডি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তা নিয়ে আজ শনিবার সকালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিভিন্ন পৌরসভার নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের উত্তর চব্বিশ পরগনার কামারহাটি ও কলকাতার ভবানীপুরের কাশারিপাড়ার বাসভবনে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। মদন মিত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ঘুষের বিনিময়ে বিভিন্ন পৌরসভায় অন্তত ১২৫ জন অযোগ্যকে চাকরি দিয়েছেন।

ইডি দাবি করছে, তাদের কাছে অভিযোগ এসেছে, পৌরসভায় এই চাকরির জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ ঘুষ নিয়েছেন। কখনো নগদে আবার কখনো সোনাদানার বিনিময়ে। সেই ঘুষের তদন্তের জন্য ইডি আজ শনিবার মদন মিত্রের কামারহাটি ও ভবানীপুরের বাসভবনে অভিযান চালায়।

এ ছাড়া আজ তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতির খোঁজে দক্ষিণেশ্বর, কামারহাটি, বেলেঘাটা, জোকা ও বেহালার বিভিন্ন স্তরের তৃণমূল নেতাদের বাসভবনে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে ইডি।