অজিত পাওয়ার
অজিত পাওয়ার

কে এই অজিত পাওয়ার, কীভাবে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার আজ বুধবার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হয়েছেন। ৬৬ বছর বয়সী এ নেতা দীর্ঘদিন ধরে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ছিলেন অর্থনৈতিক কৌশলবিদ। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি রাজ্যের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক মন্ত্রীও ছিলেন।

১৯৫৯ সালের ২২ জুলাই আহমেদনগরের দিওলালি প্রাভরা গ্রামে জন্ম অজিত পাওয়ারের। মহারাষ্ট্রের গ্রামীণ জীবন থেকে রাজ্যের শাসনক্ষমতার শীর্ষস্থানে পৌঁছেছিলেন তিনি। কৃষিজীবনের কষ্টকর অভিজ্ঞতা ও সমবায় আন্দোলনের সঙ্গে পরিচয় থাকাটা তাঁর এই যাত্রায় বড় ভূমিকা রেখেছে।

অজিত পাওয়ার প্রবীণ নেতা শরদ পাওয়ারের ভাতিজা। এক সময়ের কংগ্রেস নেতা শরদ পাওয়ার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়ও ছিলেন তিনি। ১৯৯৯ সালে তিনি কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি গঠন করেন।

অজিত পাওয়ার সমবায় খাতের মাধ্যমে জনসেবায় প্রবেশ করেন। ১৯৮২ সালে একটি স্থানীয় চিনি কারখানার বোর্ডে আসন জিতে নেন তিনি। তিনি দ্রুত সমবায় আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।

অজিত ১৬ বছর ধরে পুনে জেলার সেন্ট্রাল কো–অপারেটিভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, যা তাঁকে বিধানসভায় প্রতিনিধিত্ব করতে সাহায্য করেছিল।

১৯৯১ সালে অজিত বারামতি আসন থেকে নির্বাচিত হন। তিনি সেই আসন থেকে পরবর্তী সব নির্বাচনে জিতেছেন, কখনো হারেননি। বারামতি থেকে ছয়বার বিধায়ক হন অজিত। এটি মহারাষ্ট্র রাজ্যের সবচেয়ে নিরাপদ ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আসনের একটি।

তৃণমূল পর্যায়ে সম্পৃক্ততার জন্য অজিত বেশ পরিচিত। সেচ, শিক্ষা ও অবকাঠামোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বারামতিকে একটি আদর্শ কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরের জন্য অজিত পাওয়ারকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়ে থাকে।

অজিত পাওয়ারকে অনেকে ‘দাদা’ বলে ডাকতেন।

বছরের পর বছর ধরে অজিত পাওয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সামলেছেন। তিনি বহুবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পানিসম্পদ, জ্বালানি, গ্রামীণ উন্নয়নসহ বিভিন্ন দপ্তরকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

অজিত পাওয়ার একাধিকবার মহারাষ্ট্রের বাজেট উপস্থাপন করেছেন। রাজ্যের সবচেয়ে নিখুঁত ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন অর্থমন্ত্রী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন তিনি। তিনি বরাদ্দ, ঘাটতি ব্যবস্থাপনা ও কল্যাণমূলক ব্যয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।

ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে অজিত পাওয়ার মহারাষ্ট্র রাজ্যে দলের প্রধান কৌশল প্রণয়নকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সরকার গঠন, জোটসংক্রান্ত আলোচনা ও বিধানসভায় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।

মাঝেমধ্যে অজিত পাওয়ার বিতর্কের মধ্যেও পড়েছেন। তবে এর পরও তিনি মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তিকেন্দ্রগুলোর একজন হিসেবে তাঁর অবস্থান ধরে রেখেছিলেন। দলের ভেতরে ও সমবায় খাতে ব্যাপক আনুগত্য ধরে রেখেছিলেন তিনি।

অজিত পাওয়ারের স্ত্রীর নাম সুনেত্রা পাওয়ার। তাঁদের দুই ছেলে পার্থ ও জয়।