আলীগঞ্জের দুর্ঘটনাস্থলে সড়কজুড়ে অবস্থান নিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক গাড়ি ও উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত হাইড্রোলিক ল্যাডার (উঁচুতে ওঠার ক্রেন)। নিচে জড়ো হয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। লক্ষ্ণৌ, উত্তর প্রদেশ, ভারত। ২২ জুন ২০২৬
আলীগঞ্জের দুর্ঘটনাস্থলে সড়কজুড়ে অবস্থান নিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক গাড়ি ও উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত হাইড্রোলিক ল্যাডার (উঁচুতে ওঠার ক্রেন)। নিচে জড়ো হয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। লক্ষ্ণৌ, উত্তর প্রদেশ, ভারত। ২২ জুন ২০২৬

ভারতের লক্ষ্ণৌতে ভবনে আগুন লেগে শিশুসহ নিহত অন্তত ১৪

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের লক্ষ্ণৌর আলীগঞ্জ এলাকায় একটি তিনতলা বাণিজ্যিক ভবনে আগুন লেগে শিশুসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরের এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫ জন।

উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ‘প্রায় এক ডজন শিশু’ রয়েছে। এ ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আগুন ও ধোঁয়া থেকে বাঁচতে কয়েকজন শৌচাগারের ভেতর ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের সবাইকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

ভবনের ভেতরে আটকে পড়াদের উদ্ধার করতে এবং আগুন নেভাতে মই বেয়ে ওপরে উঠছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ভেতর থেকে তখনো তীব্র ধোঁয়া বের হচ্ছিল। লক্ষ্ণৌ, উত্তর প্রদেশ, ভারত। ২২ জুন ২০২৬

ওই ভবনের মালিকের নাম বীরেন্দ্র শুক্লা বলে জানা গেছে। তাঁর ছেলে অখিলেশ শুক্লা সেখানে একটি গ্রাফিকস সেন্টার চালাতেন। তবে ঘটনার পর তাঁরা কেউই ঘটনাস্থলে আসেননি এবং তাঁদের বাড়িতেও পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ভবনটির নিচতলায় পোষা প্রাণীর একটি দোকান রয়েছে। আর ওপরের তলায় রয়েছে গ্রাফিকস অ্যানিমেশন প্রশিক্ষণকেন্দ্র। কর্মকর্তারা জানান, ভবনটির ভেতরে আসলে কী ধরনের ব্যবসা চলত, সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য জানার অপেক্ষা করছেন তাঁরা।

উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক বলেন, ‘এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। এখানে প্রায় এক ডজন শিশু মারা গেছে এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে...সরকার ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে আছে। এটি সত্যিই খুব দুঃখজনক একটি ঘটনা।’

ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের নিচতলার পোষা প্রাণীর দোকান থেকে একটি বিড়ালকে খাঁচাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারীরা। লক্ষ্ণৌ, উত্তর প্রদেশ, ভারত। ২২ জুন ২০২৬

ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, আগুন নেভাতে ১৪টি ফায়ার টেন্ডার (অগ্নিনির্বাপণে ব্যবহৃত গাড়ি) কাজ করেছে। এর মধ্যে একটি হাইড্রোলিক প্ল্যাটফর্ম গাড়িও (উঁচুতে ওঠার গাড়ি) ছিল।

আমান নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘এখানে একটি লাইব্রেরি বা কম্পিউটার শেখার প্রতিষ্ঠান আছে। আমরা এখানে পৌঁছে দেখি, ভবনটি থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আমরা পাঁচ-ছয়জনকে বাঁচাতে পেরেছি। আগুন লাগার পর এক ব্যক্তি ভবন থেকে লাফ দেন...।’

লক্ষ্ণৌর আলীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি পরিদর্শনে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (গেরুয়া পোশাক পরিহিত) ও উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক (সাদা পোশাক পরিহিত)। পাশে পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন। লক্ষ্ণৌ, উত্তর প্রদেশ, ভারত। ২২ জুন ২০২৬

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। তিনি কর্মকর্তাদের দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা দ্রুত চালানো এবং আহত ব্যক্তিদের উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তিনি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার কথাও বলেছেন।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহত ব্যক্তিদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় নরেন্দ্র মোদি লেখেন, ‘উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আহত ব্যক্তিরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন, এই কামনা করি।’