ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দিপকে
ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দিপকে

মুম্বাই পুলিশের অনুমতি মেলেনি, ‘জেল ভরো’ আন্দোলনের ডাক তেলাপোকাদের

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) মুম্বাই পুলিশের অনুমতি পায়নি। ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে গণবিক্ষোভের ডাক দিলেও সিজেপি জমায়েত করার অনুমতি পেল না। তাদের জানানো হয়েছে, শিবাজি পার্কে বিক্ষোভ আন্দোলন করা যায় না। সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, অনুমতি না মেলায় তাঁরা ওই দিন জেল ভরো আন্দোলন করবেন। গ্রেপ্তার হবেন। তিনি বলেছেন, ‘দেখব, মুম্বাইয়ের জেলে কত জায়গা রয়েছে।’

মুম্বাই পুলিশ ছাড়াও গত রোববার সিজেপি জোড়া ধাক্কা খেয়েছে আসামে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই রাজ্যে ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানে অংশ নিতে গেলে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কাকে রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর সঙ্গে আটক করা হয় সিজেপির স্থানীয় বহু নেতাকেও। আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়ার পর অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছিলেন, রাঙ্কাকে মুক্তি না দিলে সোমবার অন্য সঙ্গীদের নিয়ে তিনি নিজেই আসামে যাবেন। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পারেন।

নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই কমিশনারকে উপেক্ষা করে শাসক দল বিজেপির স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগের জন্য সিজেপি ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছিল। বলেছিল, ওই সময়ের মধ্যে ইস্তফা না দিলে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ শুরু করা হবে। দিপকে জানিয়েছিলেন, সেই আন্দোলন এবার শুরু হবে মুম্বাইয়ে, ২ অক্টোবর গান্ধীজয়ন্তীর দিন। তারপর তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে দেশের সর্বত্র। সে অনুযায়ী মুম্বাই পুলিশের কাছে শিবাজি পার্কে জমায়েতের জন্য আবেদনও করা হয়। কিন্তু মুম্বাই পুলিশ সেই অনুমতি দিতে অস্বীকার করে।

অনুমতি না মেলায় রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ মারফত দিপকে জানান, ‘মুম্বাই পুলিশ ২ অক্টোবর আমাদের বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। নাগরিক কণ্ঠস্বর দমানোর এই কৌশল গ্রহণযোগ্য নয়। গান্ধীজয়ন্তীতে সিজেপি জেল ভরো আন্দোলন শুরু করবে।’ দিপকে জানান, পুলিশ তাঁদের একটি লিখিত প্রত্যাখ্যানপত্র দিতে চেয়েছিল। তাঁরা নিতে চাননি।

জমায়েতের অনুমতি না দেওয়ার পক্ষে পুলিশের যুক্তি, শিবাজি পার্ক জনসমাবেশের জন্য চিহ্নিত, বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য নয়। যুক্তির স্বপক্ষে মুম্বাই পুলিশ ২০১৩ সালের বম্বে (মুম্বাই নয়) হাইকোর্টের এক রায়ের উল্লেখ করে। তাতে বলা হয়েছিল, শিবাজি পার্ক খেলাধুলো ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না।

ওই রায় ছাড়াও পুলিশ বলে, জমায়েতের জন্য বৃহণ্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র জমা দেওয়া হয়নি। এলাকাটি শান্ত এবং পুরোপুরি আবাসিক স্থল। বিক্ষোভ সমাবেশের ফলে সেখানে শব্দদূষণ হবে। যানজটও দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া ওই এলাকায় কয়েকটি হাসপাতালও রয়েছে। বিক্ষোভ সমাবেশ হলে সেখানে যাতায়াত ব্যাহত হবে।

শিবাজি পার্কে অনুমতি না মেলায় সিজেপি নেতারা কোথায় জড়ো হবেন, জানা যায়নি। পুলিশ সংগঠনের নেতাদের কোথাও জড়ো হতে দেবে কি না, তা কিংবা আইন শৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে নেতাদের আগেই গ্রেপ্তার করবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।

তবে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের প্রশ্নে সিজেপির দেশজোড়া আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন লাদাখের পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়া শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। নিট আন্দোলনের সময়ও তিনি সমর্থন জানিয়ে সিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। যন্তর মন্তরে এসে অনশন করেছিলেন। তার পর থেকে অবশ্য নানা কারণে মনে হয়েছিল, জেন–জির সঙ্গে ওয়াংচুকের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি লাদাখ আন্দোলনের বর্ষপূর্তিতে ওয়াংচুকের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে সিজেপির কোনো শীর্ষ নেতা লেহতে যাননি।

কিন্তু জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ওয়াংচুক সিজেপির আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ‘বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনপ্রক্রিয়া।’

রোববার ওয়াংচুক বলেন, ‘যন্তর মন্তর আন্দোলন শুরুর সময় সিজেপি ছিল তুলনামূলকভাবে নতুন। নেতারা নতুন, সংগঠন নতুন। তখনই আমি তাদের পূর্ণ সমর্থন দিয়েছি। এখন ওদের কণ্ঠস্বর জোরালো হয়েছে। দৃঢ় হয়েছে। আমার বিশ্বাস, এই কণ্ঠস্বর গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেবে।’

চলতি বছরের জুন মাসে সিজেপির আন্দোলনের সময় ওয়াংচুক যন্তর মন্তরে উপস্থিত ছিলেন। এবার মুম্বাইয়ে থাকবেন কি? এ প্রশ্নের জবাবে বর্ষীয়ান শিক্ষাবিদ ও পরিবশ আন্দোলনকর্মী বলেন, ব্যক্তিগতভাবে সব আন্দোলনে থাকা তাঁর পক্ষে সব সময় সম্ভবপর হবে না। তবে এই ন্যায়সংগত আন্দোলনের প্রতি তাঁর সম্পূর্ণ নীতিগত সমর্থন রয়েছে।