উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি রাজ্য মণিপুরে আবার ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সেখানে জাতীয় নাগরিক পঞ্জির (এনআরসি) দাবিতে চলা বিক্ষোভের কারণে আগেই আদমশুমারির কাজ স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। এর মধে৵ই তামেনগ্লং জেলার লেইসাংফাইয়ে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহে গিয়ে সন্দেহভাজন নাগা উগ্রপন্থীদের গুলিতে গত মঙ্গলবার দুই কুকি নারী নিহতের খবরে উত্তেজনা বাড়ছে।
নিহত ওই দুই নারী হলেন চোঙ্গা সিটলহো (৬০) ও কিমবোই সিংন (৩০)।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আরও কয়েকজন গ্রামবাসী নিখোঁজ রয়েছেন। ‘কুকি ইনপি মণিপুর’সহ একাধিক সংগঠন বিচার না পাওয়া পর্যন্ত ওই দুই নারীর মরদেহ গ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েছে।
এবারের এই সহিংসতা হচ্ছে নাগা ও কুকিদের মধ্যে। ২০২৩ সালে বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়েছিল মেইতেই ও কুকিদের মধ্যে। ওই সংঘর্ষে তিন শতাধিক নিহত ও পঞ্চাশ হাজারের বেশি মানুষ ঘরহারা হয়েছিলেন।
ওই হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা পর মঙ্গলবার গভীর রাতে কাংপোকপি জেলার চাওয়াংকিনিংয়ে একটি নাগা গ্রামে সশস্ত্র হামলা হয় এবং দুটি বসতবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) মোতায়েন ছিল। ওই দিন রাত সাড়ে ১০টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কয়েক দফায় হামলাকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর লড়াই চলে।
এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর তামেনগ্লংয়ের টোলেন কুকি গ্রামে নিজ বাড়িতে উগ্রপন্থীদের হামলায় এক দম্পতি প্রাণ হারান ও তাঁদের শিশুসন্তান গুরুতর আহত হয়। একই দিনে নোনে জেলার লংপি গ্রামেও উগ্রপন্থীদের গুলিতে একজন পুরুষ ও একজন নারী নিহত হন।
নাগা পিপলস ফ্রন্টের প্রবীণ নেতা ও বিধায়ক আওয়াংবো নিউমাই চলমান ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে এক বিবৃতিতে বলেন, এ ধরনের বর্বরোচিত ও কাণ্ডজ্ঞানহীন কার্যকলাপ কোনো সম্প্রদায়ের জন্যই শুভ ফল বয়ে আনবে না।