
ভারতের মহারাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতা পৃথ্বীরাজ চৌহান আজ মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলার বর্তমান সংকট নিয়ে নয়াদিল্লির নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই নীরবতা বিশ্বমঞ্চে ভারতের অবস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে সেফ হোম থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চৌহান প্রশ্ন তোলেন, ‘...ভেনেজুয়েলায় যা ঘটেছে, তা কি ভারতেও হতে পারে? মি. ট্রাম্প কি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকেও অপহরণ করবেন?’
পৃথ্বীরাজ চৌহান আজ মুম্বাইয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানতে চান, ভারতের অবস্থাও কি ভেনেজুয়েলার মতো হতে পারে? তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার এই ঘটনা ‘জাতিসংঘের সনদের পরিপন্থী’। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্বে একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি হতে পারে।
মহারাষ্ট্রের এই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বর্তমান ভারত সরকার বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংঘাতের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি বারবার এড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘ভারত বরাবরের মতো এবারও মুখ খোলেনি, ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে কোনো অবস্থান নেয়নি। অথচ রাশিয়া ও চীন ঠিকই যুক্তরাষ্ট্রের এই কাজের সমালোচনা করেছে।’
চৌহান আরও যোগ করেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও একই ঘটনা ঘটেছে। আমরা কোনো পক্ষ নিইনি। ইসরায়েল-হামাস ইস্যুতেও আমরা কোনো অবস্থান নিইনি। আর এখন অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে এতটাই ভয় পাচ্ছি যে যা ঘটেছে তার সমালোচনা করার সাহসটুকুও দেখাচ্ছি না।’
চৌহানের মতে, ভেনেজুয়েলার বিশাল জ্বালানি সম্পদই এই সংকটের মূল কারণ। তিনি বলেন, ‘এই পুরো ঘটনার মূলে রয়েছে ভেনেজুয়েলার তেল। কারণ, তাদের কাছে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর নজর রাখে এবং তেলকে কীভাবে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে কাজ করে।’
চৌহান দাবি করেন, আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ যুক্তরাষ্ট্রের এই কাজের সমালোচনা করলেও ভারত চুপ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই কাণ্ডের সমালোচনা করেছে, কিন্তু ভারত বরাবরের মতো নীরব।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রে স্পষ্ট অবস্থান না নিয়ে ভারত কীভাবে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন দেখে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন চৌহান। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি বলি, ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি, তবে আমাদের একটি শক্ত অবস্থান নিতে হবে। আপনি যদি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হতে চান, তবে আপনাকে ভূমিকা পালন করতে হবে। এভাবে চুপ থেকে কাজ হবে না।’
এই কংগ্রেস নেতা আরও যোগ করেন, ‘আপনি একসঙ্গে দুই পক্ষকে খুশি করতে পারবেন না। এ বিষয়ে আপনাকে একটি পক্ষ নিতেই হবে। এখানে কোনো একটা বড় ভুল হচ্ছে।’ তিনি ভারতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বুক ফুলিয়ে কথা বলার আহ্বান জানান।
চৌহান এর আগেও মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছিলেন। তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে দাবি করেছিলেন, অভিযানের প্রথম দিনেই ভারত বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছিল। তিনি দাবি করেছিলেন, ওই চার দিনের লড়াইয়ে ভারতের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল এবং আরও ক্ষয়ক্ষতির ভয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীকে কার্যত বসিয়ে রাখা হয়েছিল।