ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ওড়িশার একটি সরকারি হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে আগুন লেগে অন্তত ১০ জন রোগী নিহত হয়েছেন। রোগীদের উদ্ধার করতে গিয়ে দগ্ধ হয়েছেন হাসপাতালের ১১ জন কর্মী। বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি।
স্থানীয় সময় গতকাল রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কুটাক শহরের এসসিবি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার আইসিইউতে আগুন লাগে। দমকল কর্মীরা দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোগীদের হাসপাতালের অন্য বিভাগে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এই হাসপাতালটি রাজ্য সরকার পরিচালিত বড় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি।
হাসপাতাল পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি বলেন, আগুনে ট্রমা কেয়ার আইসিইউ এবং পাশের একটি আইসিইউ ও কয়েকটি ওয়ার্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসাকর্মী ও নিরাপত্তা কর্মীরা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে রোগীদের উদ্ধারে অংশ নেন। এ সময় তাঁদের কয়েকজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকার নিহত প্রত্যেকের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনাটি তদন্তে তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভারতে হাসপাতালগুলোতে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং এর অনেকগুলোর কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক ত্রুটিকে দায়ী করা হয়। হাসপাতালগুলোতে আগুনের ঝুঁকি বেশি থাকে, কারণ সেখানে অনেক বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকে।
গত অক্টোবরেও রাজস্থানের একটি হাসপাতালে আইসিইউতে আগুন লেগে গুরুতর অসুস্থ ছয়জন রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৪ সালে উত্তর ভারতের ঝাঁসি শহরের একটি মেডিকেল কলেজের নবজাতকদের আইসিইউতে আগুন লেগে অন্তত ১০ নবজাতকের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালে পশ্চিম ভারতের ভিরার শহরের বিজয় বল্লব হাসপাতালের আইসিইউতে আগুন লেগে ১৩ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। একই বছর পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের বান্দ্রা জেলার একটি নবজাতক পরিচর্যা ইউনিটে আগুন লেগে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়।
ভারতে হাসপাতালের আগুনের অন্যতম সাধারণ কারণ হল শর্ট সার্কিট। হাসপাতালগুলো আগুনের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ সেখানে প্রচুর বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, অক্সিজেন সিস্টেম এবং রোগীরা থাকেন, যাদের জরুরি অবস্থায় দ্রুত সরিয়ে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।