পশ্চিমবঙ্গের নতুন মন্ত্রিসভায় কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন

(বাঁ থেকে) অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষ, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও নিশীথ প্রামাণিক
ছবি: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া থেকে স্ক্রিনশট

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার আজ সোমবার পাঁচজন মন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন করেছে। তারা গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে শপথ নিয়েছিলেন।

পাঁচ মন্ত্রী হলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা দিলীপ ঘোষ, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু, অগ্নিমিত্রা পাল এবং নিশীথ প্রামাণিক।

বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি ও খড়গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষকে গ্রামোন্নয়ন এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ পরিকাঠামো নির্মাণ, পঞ্চায়েতসংক্রান্ত শাসনব্যবস্থা এবং গবাদিপশু ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এই মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়াকে দেওয়া হয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তাঁর দপ্তর রাজ্যের খাদ্য বণ্টন ব্যবস্থা, রেশনব্যবস্থা এবং জনকল্যাণমূলক খাদ্য প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের বিষয়টি দেখভাল করবে।

রানিবাঁধ আসনের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডুকে অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই মন্ত্রণালয় মূলত পশ্চিমবঙ্গের অনগ্রসর সম্প্রদায়ের জন্য কল্যাণমূলক পদক্ষেপ, স্কলারশিপ এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক ও রাজ্য বিজিপির অন্যতম পরিচিত নারী মুখ অগ্নিমিত্রা পাল দায়িত্ব পালন করবেন নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের। বিজেপি নারীকেন্দ্রিক কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ অবস্থায় তাঁর মন্ত্রণালয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মাথাভাঙ্গার বিধায়ক ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গ বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। এ অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে কাজ করবেন নিশীথ প্রামাণিক।

আজ সোমবার নবান্নে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের পর নতুন সরকার রাজ্যজুড়ে ‘আয়ুষ্মান ভারত’সহ কেন্দ্রের প্রধান জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরই মন্ত্রীদের দপ্তরের তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

প্রথম এই বৈঠকে সরকার তাদের নির্বাচনী বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের পথে হাঁটা এবং পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বেশ কিছু নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, নতুন সরকার বর্তমানে চালু থাকা রাজ্যের কোনো প্রকল্প বন্ধ করবে না। তবে তিনি বলেন, ‘আমরা উপযুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করব। মৃত ব্যক্তি বা অ-ভারতীয়ের মতো যারা অযোগ্য তাদের তালিকা থেকে বাদ দেব। দেশের মানুষের জন্য বরাদ্দ জনকল্যাণমূলক সুবিধা যেন সঠিক ব্যক্তিরা পান, তা নিশ্চিত করা হবে।’

নতুন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতীয় ন্যায়সংহিতা (বিএনএস) এখন থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। রাজ্যের আগের সরকার এটা কার্যকর করেনি।

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়ী হয়। অন্যদিকে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস পায় ৮০টি আসন।