তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

বিজেপি এবার ভয় দেখানো শুরু করেছে: পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার সব শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতি ও নির্বাচনবিষয়ক উপদেষ্টা সংস্থা ‘আই-প্যাক’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা বিনীশ চন্দেলকে দিল্লিতে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন অভিষেক। বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে ব্যাখ্যা করে অভিষেক বলেছেন, এটি নির্বাচনে সব দলের সমান সুযোগের ধারণাকে নাড়িয়ে দিচ্ছে।

তৃণমূল নেতা বলেছেন, এই পদক্ষেপ ‘ভয়ানক’ এক বার্তা দিচ্ছে। কেউ যদি বিরোধীদের সঙ্গে কাজ করেন, তবে পরবর্তী লক্ষ্য তিনি হতেই পারেন। এটি গণতন্ত্র নয়, এটি ভয় দেখানো…যাঁরা গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগের সম্মুখীন, তাঁরা পক্ষ পরিবর্তন করার সঙ্গে সঙ্গেই সুরক্ষা পেয়ে যান। অথচ অন্যদের রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক সময়ে দ্রুত লক্ষ্যবস্তু করা হয়। মানুষ আর এসবের সামনে অন্ধ হয়ে নেই।

কেন্দ্রীয় সরকার প্রশাসনকে সরাসরি ব্যবহার করছে বলেও তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো যখন চাপের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে শুরু করে, তখন মানুষের আস্থা কমতে থাকে। একদিকে নির্বাচন কমিশন, অন্যদিকে ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট), এনআইএ (ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি), সিবিআই (সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)-এর মতো প্রতিষ্ঠান এই সময়ে অর্থাৎ সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়ে হস্তক্ষেপ করছে। এটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে, নিরপেক্ষতার নয়।’

রাজ্যে একটি কথিত কয়লা কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত অর্থ চোরাচালানের অভিযোগে সোমবার রাতে ইডি গ্রেপ্তার করে চন্দেলকে। তাঁর দিল্লির বাসভবনে তল্লাশি চালানোর কয়েক সপ্তাহ পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো।

তবে আই-প্যাক-এর ইডির নজরদারিতে আসার ঘটনা এই প্রথম নয়। গত জানুয়ারিতে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা এই সংস্থার অন্যতম পরিচালক প্রতীক জৈনের কলকাতার বাড়িতে ইডি কর্মকর্তারা তল্লাশি চালিয়েছিলেন। এই তল্লাশি অভিযানের পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে তৃণমূলের সব নেতা–কর্মীর গাড়িতে তল্লাশি চালানোর নির্দেশ কমিশন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। যেসব নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস, তার মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী রুজিরাও রয়েছেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গাড়িতে অর্থ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কি না, তা দেখতেই তল্লাশি চালাতে কমিশন নির্দেশ দিয়েছে।

তবে এসবের পরেও শেষ পর্যন্ত বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসবে না বলে মন্তব্য করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ‘অমিত শাহ ও বিজেপির নেতৃত্ব আগামী ৪ মে (ভোট গণনার দিন) বাংলায় থাকুন। জ্ঞানেশ কুমার (মুখ্য নির্বাচন কমিশনার) এবং আপনাদের মোতায়েন করা প্রতিটি সংস্থাকে নিয়ে আসুন। বাংলা ভয় পাবে না, চুপ থাকবে না এবং মাথা নতও করবে না। এটি এমন এক মাটি, যা প্রতিরোধের মাধ্যমে চাপের উত্তর দেয়। আর বাংলা আপনাদের ঠিক সেটাই দেখাবে।’