
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শিলিগুড়ি সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এতে অন্যান্য অভিযোগের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারত সরকারকে জড়িয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে।
রিংকি চট্টোপাধ্যায় সিং নামের এক আইনজীবী বৃহস্পতিবার এ অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, জনসমক্ষে দেওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু বক্তব্য দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও মানহানিকর।
আইনজীবী রিংকি চট্টোপাধ্যায় তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন জনসভা, রাজনৈতিক মঞ্চ ও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন অভিযুক্ত (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)। তিনি প্রকাশ্যে এসব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সততা, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস ও অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।’
২ জুন একটি রাজনৈতিক মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে ভারতের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান আইনজীবী রিংকি। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত মঙ্গলবার মমতা দাবি করেন, ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত গোপনীয় আলাপ-আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে নানা অভিযোগ তোলেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার এবং দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে বৈরী মনোভাব সৃষ্টির স্পষ্ট উদ্দেশ্যে জনসমক্ষে ও সংবাদমাধ্যমের সামনে এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এক সপ্তাহ আগে মমতার বিরুদ্ধে একটি এফআইআর করা হয়েছে। এতে তাঁর বিরুদ্ধে গত বছর কলকাতায় এক ঈদ উৎসবে সনাতন ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ করা হয়েছে। আইনজীবী রিংকির অভিযোগে বলা হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য সনাতন ধর্মের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় মমতা একটি উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ইঙ্গিত করেছিলেন, একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায় যদি হিন্দুদের ওপর হামলা চালায়, তবে ‘তাঁদের ১২টা বেজে যাবে’।
আইনজীবী রিংকির অভিযোগ, এ ধরনের মন্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল ‘ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা’ এবং ‘সামাজিক অশান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা।’