
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে ব্যাপক হট্টগোল হয়েছে। গতকাল বুধবার মালদা জেলায় নির্বাচন ও বিচার বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন সুপ্রিম কোর্ট।
আদালত এই ঘটনাকে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করা এবং কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার একটি ‘পূর্বপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে এ ঘটনার জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দায়ী করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তাঁর হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
মালদায় বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বুধবার ৯ ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখা হয়েছিল। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, তাঁদের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করতে এভাবে তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে বলে মনে করছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এসআইআরের কাজে নিয়োজিত তিন নারী কর্মকর্তাসহ মোট সাতজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে ব্লক ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতরে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে তাঁদের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার করেন।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা এই ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালত ওই এলাকায় কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনেরও নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ‘সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ’ হওয়ায় বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপির মূল পরিকল্পনা হলো, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন বাতিল করে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করা।
মমতা বলেন, ‘বুধবার মালদায় যা ঘটেছে, তা কে ঘটিয়েছে আমি জানি না। কিন্তু আমাকে কেউ কোনো তথ্য দেয়নি।’
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, নতুন মুখ্যসচিব দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি এবং বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ঘেরাও হওয়ার বিষয়টি তিনি মধ্যরাতে একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন।
নতুন মুখ্য সচিব বা প্রশাসককে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। মুর্শিদাবাদ জেলার এক নির্বাচনী জনসভায় মমতা বলেন, ‘বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আমি নির্বাচন কমিশনের নিন্দা জানাই।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘আমার সব ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমি আগে কখনো এমন নির্বাচন কমিশন দেখিনি। নির্বাচন কমিশন বেসামরিক ও পুলিশ প্রশাসনে নিজেদের কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে। তারা আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’