
আম আদমি পার্টির (আপ) রাজ্যসভা সদস্য রাঘব চাড্ডার সঙ্গে দলের বিচ্ছেদ প্রায় চূড়ান্ত। দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয়ে গেছে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের চাপান–উতোর। রাঘব রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির উপনেতা ছিলেন। আপের পক্ষ থেকে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানকে চিঠি লিখে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই পদে তাঁকে আর রাখা হচ্ছে না। সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পাঞ্জাব থেকে নির্বাচিত সদস্য অশোক মিত্তলকে।
এর অর্থ, দলে থাকলেও রাঘবকে আর দলের মনে করা হচ্ছে না। রাজ্যসভায় ৩৭ বছর বয়সী রাঘবের পরিচয় আপ সদস্য হিসেবেই থাকছে। তবে দল তাঁকে আর তাদের একজন বলে আর গ্রাহ্য করছে না। আপ থেকে দল বহিষ্কার করলে রাজ্যসভায় রাঘবের পরিচিতি হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। কিন্তু নিজে দলত্যাগ করলে তিনি সদস্যপদ হারাবেন। সে ক্ষেত্রে তাঁকে উপনির্বাচনে জিতে আসতে হবে।
গতকাল শুক্রবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে আপ নেতৃত্ব জানিয়েছে, রাঘব কোনো বিতর্কে অংশ নিলে যত সময় তিনি ভাষণ দেবেন, তা যেন আপের জন্য বরাদ্দ সময় থেকে কাটা না হয়। রাজ্যসভায় রাঘবের মেয়াদ রয়েছে আরও দুই বছর।
দুই বছর ধরেই রাঘবের সঙ্গে আপ নেতৃত্বের দূরত্ব বাড়ছিল। আবগারি নীতিতে দুর্নীতির অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, রাঘবকে তখন প্রতিবাদী হতে দেখা যায়নি। চোখের চিকিৎসার জন্য সে সময় অনেক দিন তিনি লন্ডনে কাটান।
কেজরিওয়াল জামিন পাওয়ার সময়ও রাঘবকে নেতৃত্বের পাশে দেখা যায়নি। রাজ্যসভায় সরকারবিরোধী কোনো বিষয়ে তিনি বক্তব্য রাখেননি। সরকারি নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওয়াকআউট করার সময় বহু ক্ষেত্রে তাঁকে কক্ষে বসে থাকতে দেখা গেছে।
আপের অভিযোগ, খাদ্য ডেলিভারি কর্মীদের সমস্যা কিংবা বিমানবন্দরে চা–শিঙাড়ার অত্যধিক দামের মতো অরাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বললেও একবারের জন্যও সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য রাঘব রাখেননি। এই কারণে আপ নেতৃত্ব তাঁকে ‘ভিতু’র তকমা দিয়েছে। বলেছে, ভিতু বলেই তিনি সরকারের সমালোচনার পথে পা বাড়াননি।
আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ বলেছেন, তাঁদের দল ছোট। ছোট দলের জন্য সময়সীমা কম বরাদ্দ থাকে। সেই কম সময় তিনি শিঙাড়ার দামের মতো আজেবাজে বিষয়ে খরচ করেছেন। দল এসব বরদাশত করে না।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ও আপ নেতা ভগবন্ত সিং মান বলেছেন, রাঘবের উচিত ছিল চটক ছেড়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে কথা বলা। তা তিনি করেননি।
রাঘবও এর পাল্টা বক্তব্য রেখেছেন। দলের নেতৃত্বের প্রতি তাঁর প্রশ্ন, সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা সংসদে তুলে ধরাটা কি অন্যায়? উপনেতার পদ থেকে অপসারণের পর দলীয় পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মুখ খুলে রাঘব বলেছেন, ‘আমাকে চুপ করানো হয়েছে, কিন্তু আমি হেরে যাইনি।’
আম আদমি পার্টির প্রথম সারির নেতা হলেও রাঘব কিন্তু কখনো সেই অর্থে জননেতা ছিলেন না। কুমার বিশ্বাস, কিরণ বেদী, শান্তিভূষণ, যোগেন্দ্র যাদব, সাংবাদিক আশুতোষের মতো রাঘবও আপে যোগ দিয়েছিলেন কেজরিওয়ালের সঙ্গী হিসেবে। তাঁরা সবাই একে একে দলত্যাগ করেছেন।
কেজরিওয়ালের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মতামত দিয়ে কেউ টিকে থাকতে পারেননি। দিল্লি মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন আপ নেত্রী স্বাতী মালিওয়ালের সঙ্গেও আপের দূরত্ব বেড়েছে। দল তাঁকেও না তাড়ানোয় তিনিও রাজ্যসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেছেন। রাঘব চাড্ডার হালও তেমনই হতে চলেছে বলে অনুমান।
রাঘব বিয়ে করেছেন তাঁর বহু বছরের পুরোনো বান্ধবী হিন্দি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়াকে। বিয়ের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে দলের দূরত্ব বেড়ে গেছে। এখন জোর জল্পনা, রাঘব হয়তো বিজেপিতে যোগ দেবেন।
পাঞ্জাব থেকে রাঘব রাজ্যসভায় এসেছিলেন। আগামী বছর পাঞ্জাব বিধানসভার ভোট। রাজনৈতিক জল্পনা, তার আগেই রাঘব আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন।