ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতাসহ সব এলাকায় আগামীকাল ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে। খুশির আনন্দ ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। তবে এবার কলকাতার দুই জনপ্রিয় পশুর হাটে অন্যান্য প্রাণীর দেখা মিললেও ছিল না গরু। প্রকাশ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধ থাকায় গরু ব্যবসায়ীরা এবার কলকাতার কোনো পশুর হাটে উপস্থিত হননি।
মঙ্গলবার কলকাতার দ্বিতীয় বৃহত্তম পশুর হাট খিদিরপুর এবং কলকাতার নাখোদা মসজিদের সামনের জাকারিয়া স্ট্রিটের পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে কোনো গরু নেই। আছে ছাগল, দুম্বাসহ অন্যান্য প্রাণী। মানুষ এবার সেই সব প্রাণী কিনে বাড়ি ফিরছেন। সবার মুখেই আফসোস, এবার আর কেনা গেল না গরু!
খিদিরপুরের শেখ কুতুব একটি ছাগল নিয়ে পশুর হাটে এসেছিলেন। তিনি জানান, এই ছাগল বিক্রি করে তাঁর পরিবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপন করবে। তবে হাটে গরু কেনাবেচা না হওয়ায় তাঁর খারাপ লেগেছে।
আগামীকাল কলকাতায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে। ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে কলকাতার ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে। বিগত ৪৫ বছর ধরে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার প্রধান জামাত কলকাতার গড়ের মাঠের কাছে মেয়ো রোডে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। তবে এবার পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার রাস্তায় নামাজ পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
ইতিমধ্যে এই নামাজের আয়োজকেরা ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ড থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছেন। কারণ, এই ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জামাতের আয়োজকেরা ইতিমধ্যে স্থান নির্বাচন করে সেখানে নামাজ আদায়ের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। ১৯৮০ সালের আগে কলকাতার ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হতো কলকাতার কেন্দ্রস্থল ধর্মতলার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ময়দানে। ১৯৮০ সালে এই ঈদের জামাত শহীদ মিনার ময়দান থেকে সরিয়ে মেয়ো রোডে করার উদ্যোগ নেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। সেই থেকে ঈদের জামাত মেয়ো রোডে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল দীর্ঘ সাড়ে চার দশক ধরে।