শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে হাজার হাজার তরুণ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে হাজার হাজার তরুণ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন

সিজেপির আরও কঠোর অবস্থানের পরই পদত্যাগ করলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠক সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আজ শনিবার সকালে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, সরকার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণে রাজি না হলে আর কোনো আলোচনার অর্থ নেই।

আজ সকালে সিজেপির সেই কঠোর অবস্থান ঘোষণার পর দুপুরের দিকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি নেতা রাঙ্কা লিখেছেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ কোনোভাবেই আপসের বিষয় নয়। এ বিষয়ে সরকারের উত্তর যদি “না” হয়, তাহলে আর আলোচনার কোনো অর্থ নেই।’

গতকাল শুক্রবার দুপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করেন। আজ শনিবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে তৃতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা আছে। গতকাল দ্বিতীয় দফার আলোচনায় মন্ত্রীরা সিজেপি প্রতিনিধিদলকে বলেছেন, তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা শেষে সরকারের অবস্থান জানানো হবে।

সিজেপি তিনটি দাবি উত্থাপন করেছে। এগুলো হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা ও ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্টের (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ।

গতকাল শুক্রবারের বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দুটি প্রধান দাবিতে নীতিগতভাবে সম্মতি দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। সেগুলো হলো বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এখনো অচলাবস্থা থেকে গেছে।

গতকালের বৈঠক শেষে জে পি নাড্ডা বলেন, ‘বৈঠকটি প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলেছে। তাদের তিনটি প্রধান দাবি এবং পরীক্ষা সংস্কারসংক্রান্ত পাঁচটি প্রস্তাব রয়েছে। আমরা তাদের বলেছি, আগামীকাল (শনিবার) বিকেলে আবার বৈঠক করব এবং সরকারের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা তাদের জানাব।’

আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়টি ‘কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়’ বলে দাবি করলেও সরকারি সূত্র এনডিটিভিকে বলেছে, মন্ত্রীর পদত্যাগের কোনো সম্ভাবনা নেই।

এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা রোধে গত দুই দিনে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস-সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার আদালত বা ফাস্ট–ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আইনে সংশোধন এনে আরও কঠোর শাস্তি ও বেশি অঙ্কের জরিমানার বিধান যুক্ত করার পরিকল্পনাও করছে সরকার।

কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে শিক্ষাসচিবকে বদলি করেছে। পাশাপাশি পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) ৪৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে এবং সংস্থাটিকে শিগগিরই পুরোপুরি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এনটিএর ৪৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেছেন, শুধু এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।