ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

তৃণমূলের নাম-প্রতীক বিরোধ চার মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

পশ্চিমবঙ্গে ভাঙনের মুখে পড়া তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও দলীয় প্রতীক নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে চার মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে তৃণমূলের একটি অংশকে দেওয়া ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে নওশাদ সিদ্দিকীর দল আইএসএফের করা মামলায় রায় দেওয়া স্থগিত রেখেছেন কলকাতা হাইকোর্ট।

সোমবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর ডিভিশন বেঞ্চ তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্দেশনা দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তৃণমূলের বিবদমান দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা শেষ করতে হবে। এরপর পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে নাম ও প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে নির্বাচন কমিশন।

সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর দলটিতে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেয়। বিধানসভার মোট ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৮টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে এবং শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হন। তৃণমূল পায় ৮০টি আসন। এই ফলাফলের পর দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহ ঘোষণা করে আলাদা দল গঠন করেন। অপর অংশের নেতৃত্বে থেকে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দলীয় প্রতীক ‘জোড়া ফুল’ ও ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামের দাবি নিয়ে উভয় পক্ষ ভারতের নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর কমিশনের ফুল বেঞ্চ দুই পক্ষের যুক্তি শুনে মূল নাম ও প্রতীক স্থগিত (ফ্রিজ) করে দেয়। একই সঙ্গে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসনের আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশকে ‘মমতা তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।

অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অংশকে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম দিয়ে ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই ১৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস।

এদিকে ঋতব্রতের দলকে ‘খাম’ প্রতীক দেওয়ায় নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নওশাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) এই ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। নির্বাচন কমিশন এবার সেই প্রতীক তৃণমূলের বিদ্রোহী অংশকে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কলকাতা হাইকোর্টে রিট করেন বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর দাবি, এই প্রতীক আইএসএফের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে। সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চে শুনানি শেষে এই মামলার রায় দেওয়া স্থগিত রাখা হয়।