কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের ছবিটি নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছেন দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে
কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের ছবিটি নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছেন দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও মোদি-শাহর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

ভোট চুরির অপরাধে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছে কংগ্রেস। আজ মঙ্গলবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এই দাবি জানানোর পাশাপাশি বলেন, কমিশনকে চাপ দেওয়ার নৈতিক দায় মেনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও পদত্যাগ করা উচিত।

বৈঠকের পর ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য কে সি বেনুগোপাল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) নামে যা চলেছে, তা বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল। এটা তাঁর নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেননি। তাই তাঁরও পদত্যাগ করা উচিত।

নির্বাচন কমিশনের ‘ভোট কারচুপি’ নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সবার আগে সরব হয়েছিলেন। কীভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার শাসক দল বিজেপির সুবিধা করিয়ে দিচ্ছেন, রাহুল সেসব তথ্য আগেই জানিয়েছিলেন। বৈঠকে সদস্যরা বলেন, সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সেই সব অভিযোগই সত্য প্রতিপন্ন করেছে। স্পষ্ট করেছে, ১০ মাস ধরে কমিশনে সব সিদ্ধান্ত কার্যত একজনই গ্রহণ করছিলেন। খাড়গে বৈঠকে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার কার্যত শাসক দলের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছিলেন। এই নির্বাচন ব্যবস্থায় ভারতীয় গণতন্ত্র বিপদের মুখে পড়েছে। কংগ্রেস এই অবস্থা থেকে দেশকে উদ্ধারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

দীর্ঘ আলোচনার পর ওয়ার্কিং কমিটি যে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, তাতে বলা হয়েছে সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। সেই সঙ্গে চলমান এসআইআর ব্যবস্থাও অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। প্রস্তাবে বলা হয়, শুধু এসআইআর বাতিলই নয়, যে ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নাম এখনই তালিকায় তুলতে হবে।

ওয়ার্কিং কমিটির প্রস্তাবে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হয়ে এই নির্লজ্জ ভোট চুরির আয়োজন করেছেন জ্ঞানেশ কুমার। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে দেশের সংবিধান ও কষ্টার্জিত গণতন্ত্রকে বাঁচানো যাবে না। ভোটাধিকার ফেরত পাওয়া স্বাধীনতাসংগ্রামের চেয়ে কোনো অংশে কম কম নয়। এই অধিকার রক্ষায় কংগ্রেস রাস্তায় নেমে যেমন আন্দোলন করবে, তেমনই লড়াই করবে আদালতের আঙিনায় ও সংসদে। দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত সেই লড়াই থামবে না।

কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের এক দিন পরই বুধবার বসছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক। যদিও সেই বৈঠকে আম আদমি পার্টি (আপ) ও তামিলনাড়ুর ডিএমকে যোগ দিচ্ছে না। আপ পাঞ্জাবে সরকারে রয়েছে। আগামী বছর সেখানে নির্বাচন। কংগ্রেস তাদের প্রতিপক্ষ। ডিএমকের হাত ছেড়ে কংগ্রেস তামিলনাড়ুতে সরকার গড়তে টিভিকে–কে সমর্থন দেওয়ায় এম কে স্ট্যালিন ক্ষুব্ধ। ইন্ডিয়া জোটের শরিক ডিএমকে আর থাকবে কি না, এখনো সেই সিদ্ধান্ত স্ট্যালিন নিয়ে উঠতে পারেননি। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও বুধবারের বৈঠকে থাকবেন না। ওই দিন রাজ্যসভার ভোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কারণে দলীয় নেতাদের সঙ্গে তাঁকে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন। তবে দলের অন্য কোনো নেতা ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বলে তিনি জানান। এখন দেখার বিষয়, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির গৃহীত প্রস্তাবের সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের শরিকেরা সহমত হন কি না।

মঙ্গলবার অন্য দুটি বিষয় বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের চাপ এবং বিড়ম্বনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম ও জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে যে মামলা সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা হয়েছিল, প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর বেঞ্চ তা দ্রুত শুনতে সম্মত হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে ওই মামলার শুনানি হবে।

মামলার আবেদনে বলা হয়, কমিশনের সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিতে হওয়া বাঞ্ছনীয়, না হলে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে হওয়ার কথা। কিন্তু কমিশনের নিজের বিবৃতিই দেখাচ্ছে, ১০ মাস ধরে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে অনেক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। ফলে কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

দ্বিতীয় চাপ ও বিড়ম্বনা সৃষ্টি করেছেন বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (সিইও) এস চোকালিঙ্গম। মঙ্গলবার জানাজানি হয়, ২৪ সেপ্টেম্বর চোকালিঙ্গম নির্বাচন কমিশনে এক চিঠি পাঠিয়ে বলেছেন, ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে ইআরও–দের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হোক। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এই খবর দিয়ে জানিয়েছে, ইআরওদের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য চোকালিঙ্গম ‘ইসিআইনেট’ সফটওয়্যারে চারটি পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি অন্য আধিকারিকের পাশাপাশি এই বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন আইটি ডিজি সীমা খান্নাকেও। এই সীমার বিরুদ্ধেই ‘ইসিআইনেট’ মারফত ক্ষমতা কুক্ষিগত করার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ইতিমধ্যেই গান্ধী জয়ন্তীর দিন থেকে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ইন্ডিয়া জোটও কমিশনবিরোধী আন্দোলন শুরুর জন্য ওই দিনটিকেই বেছে নেবে।