
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ মঙ্গলবার সারা দিনই কলকাতায় ছিলেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করেন তিনি। এমনকি যে অনুষ্ঠানের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের কোনো যোগ নেই, সেই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অনুষ্ঠানেও টেনে আনেন কবিগুরুর প্রসঙ্গ। রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ভাবমূর্তিকে শক্তিশালী করতেই রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনটিকে কাজে লাগিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
উত্তর কলকাতায় রবীন্দ্রনাথের জন্মস্থান জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শনের মাধ্যমে দিনটি শুরু করেন অমিত শাহ। তিনি সেখানে রবীন্দ্রনাথের আবক্ষ মূর্তিতে মাল্য দান করেন।
অমিত শাহ চলে যাওয়ার পর জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নির্মাল্য নারায়ণ চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রথমে রবীন্দ্রনাথের জন্মকক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণকক্ষে পুষ্পার্ঘ্য দেন। বিচিত্রা ভবন ঘুরে দেখেন। সেখানে তিনি অতিথিদের জন্য রাখা খাতায় মন্তব্য লিখেছেন।’
নির্মাল্য নারায়ণ চক্রবর্তী সাংবাদিকদের আরও বলেন, বিচিত্রা ভবনে আইনস্টাইনের সঙ্গে কবিগুরুর ছবি দেখে অমিত শাহ জানতে চান, আইনস্টাইনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের কোথায় দেখা হয়েছিল? এ সময় রবীন্দ্রনাথের বংশলতিকাও দেখেন তিনি। কবির পরিবারের কেউ আছেন কি না, এ ব্যাপারেও খোঁজ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তবে ঠাকুরবাড়ির ‘ভিজিটরস বুক’-এ গুজরাটি ভাষায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী লিখেছেন, তা বুঝতে পারেননি নির্মাল্য নারায়ণ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘পরে তাঁর সঙ্গে আমার ঘুরতে ঘুরতে কিছু কথা হয়। আমরা যেভাবে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি রক্ষা করছি, সেসব দেখে তিনি খুশি হন। তিনি জানতে চান রবীন্দ্রনাথের জন্মতিথি ও জন্মের সময় সম্পর্কে।’
জোড়াসাঁকো পরিদর্শনের সময় অমিত শাহর সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষ ও সংসদ সদস্য লকেট চট্টোপাধ্যায়।
রবীন্দ্রনাথের বাড়ি ঘুরে দেখার পর উত্তর চব্বিশ পরগনার পেট্রাপোল সীমান্তে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে ভারতের স্থলবন্দর ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
পেট্রাপোলে ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের শুরুতেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করে অমিত শাহ বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বের একমাত্র ব্যক্তি, যিনি ভারত ও বাংলাদেশ—দুই দেশেরই জাতীয় সংগীত লেখার সম্মান অর্জন করেছেন।’
এরপর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পণ্য পরিবহনের জন্য দ্বিতীয় পরিকাঠামোর উদ্বোধন করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৮ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা দিয়েছে। এখন তা ৩০ হাজার কোটি টাকার গণ্ডিও ছাড়িয়ে গেছে।
পেট্রাপোল সীমান্তে যাত্রীদের পরিসংখ্যানের উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২২-২৩ সালে ২০ লাখ যাত্রী এই সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত করেছেন। প্রতিদিন ১১ হাজার যাত্রীর আগমন হয়েছে। দ্বিতীয় কার্গো গেট তৈরি হওয়ায় এই যাতায়াত আরও সহজ করা যাবে।
রবীন্দ্রনাথের জন্মস্থানে অমিত শাহর ২৫ বৈশাখ উদ্যাপনকে একেবারেই ভালোভাবে নেয়নি রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। দলটি নিজেদের মতো করে প্রতিবারের মতোই রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করেছে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে যাওয়ার আগেই রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে রবীন্দ্রনাথের বাড়িতে পাঠান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শন করে ফিরহাদ হাকিম সাংবাদিকদের বলেন, আসন্ন লোকসভা ভোটের কথা মাথায় রেখেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘন ঘন কলকাতায় আসছেন এবং রবীন্দ্রনাথের জন্মস্থানেও যাচ্ছেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম উল্লেখ না করে ফিরহাদ বলেন, ‘এভাবে বাঙালিকে ছোঁয়া যাবে বলে মনে হয় না। কারণ, এরা বিভাজনের রাজনীতি করেন আর রবীন্দ্রনাথ মানুষকে এক করার কথা বলেছিলেন।’
বৈশাখ মাসেই দুবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে এলেন অমিত শাহ। পয়লা বৈশাখ রাজ্যে এসে তিনি লোকসভা নির্বাচনে ৪২টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে বিজেপিকে জেতানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।