আরজি কর হাসপাতালে নারী চিকিৎসক অভয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার পর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছিল কলকাতা
আরজি কর হাসপাতালে নারী চিকিৎসক অভয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার পর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছিল কলকাতা

আরজি করে ধর্ষণ–হত্যা: চিকিৎসক অভীককে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ শুভেন্দু সরকারের

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচনের প্রচারে বলেছিলেন, তাঁরা ক্ষমতায় গেলে আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নারী চিকিৎসক ‘অভয়া’র ধর্ষণ–হত্যাকাণ্ডের মূল ফাইল ফের খোলা হবে। আলোচিত এই ঘটনার পুনঃতদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম বা সিট গঠনের নির্দেশ এরই মধ্যে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এখন চিকিৎসক অভীক দে’র বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।

ডা. অভীক আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসক না হলেও তাঁকে অভয়া হত্যাকাণ্ডের পরদিন সকালে ওই হাসপাতালের সেমিনার কক্ষে অন্যান্য চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। তিনি তখন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিও ডায়াগনসিস বিভাগের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ছিলেন। তখন তিনি পিজি হাসপাতালে স্নাতকোত্তর প্রথম বর্ষের জেনারেল সার্জারি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তখন সরকারি সব হাসপাতালে তাঁর দাপটের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারতেন না।

২০২৪ সালের ৯ আগস্ট রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক নারী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তখন ওই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। রাস্তায় নামে চিকিৎসকসহ সর্বস্তরের মানুষ। সমালোচনার মুখে পড়তে হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারকেও।

ঘটনার পর পুলিশ সঞ্জয় রায় নামের এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়ে বিচারও শুরু হয়। সঞ্জয় রায় আদালতের কাঠগড়ায় থেকে বলেছিলেন, তিনি এই খুনের সঙ্গে জড়িত নন। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি আদালতের রায়ে সঞ্জয়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি এখন কারাগারে।

তবে এই বিচারে সন্তুষ্ট ছিল না ওই চিকিৎসকের পরিবার, যাকে ‘অভয়া’ নামে ডাকা হয় তখন থেকে। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতারা আগে থেকে বলে আসছিলেন, তাঁরা ক্ষমতায় গেলে এই মামলার আবার তদন্ত হবে। এ মাসে বিজেপি এই রাজ্যে সরকার গঠনের পর পুনঃতদন্তে গতি আসে।

সরকার বদলের পর কেউ কেউ অভীক দে’কে গ্রেপ্তারের দাবিও তুলছেন। তাঁরা বলছেন, অভয়া হত্যাকাণ্ডে এই চিকিৎসকও জড়িত।

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার এ মামলার আবার তদন্তের জন্য সিবিআইকে নতুন করে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি বা সিট গঠনের নির্দেশ দেন। এই কমিটিকে আগামী ২৫ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে। এই লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত টিম বা সিট গঠন করা হয়েছে। তারপরই অভীককে নিয়ে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয় রাজ্য সরকার।