
টালিউড তারকা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। এটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। তবে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে প্রসেনজিৎ দুই ঘণ্টার বেশি সময় কাটান। বিকেল পাঁচটায় তিনি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর কক্ষে প্রবেশ করেন। বের হন সন্ধ্যা ৭টায়।
প্রসেনজিৎ সাংবাদিকদের বলেন, ‘কফি খেলাম আর গল্প করলাম কিছুক্ষণ। বললাম, আমাদের এই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক কিছুর প্রয়োজন আছে। এর উন্নয়ন আশু দরকার। আরও আলোচনা হয়েছে, মহানায়ক উত্তম কুমারের মৃত্যুদিবস এবং বিশেষ সন্মাননা নিয়ে। আমি যদি রাজনীতিতে যোগ দিই, তাহলে সবার আগে মানুষ জানতে পারবে।’
প্রসেনজিৎ চট্রোপাধ্যায় আরও বলেন, ভারত কেশরী শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ১৫ মিনিটের জন্য তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন। কলকাতার সিনেমা নিয়ে কিছু কথা হয়েছিল।
শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে প্রসেনজিৎ আরও বলেন, ‘আমি ৪০ বছর ধরে এই চলচ্চিত্র শিল্পে। কিছু জিনিস আমাদের দরকার। প্রটোকল মেনে সেসব কথা জানাতে এসেছিলাম। তবে আমাদের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি।’
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এ কথা বললেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, এই অভিনেতাকে কি বিজেপি রাষ্ট্রপতির কোটায় রাজ্যসভার সদস্য করবে?
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনের পর বিজেপির নেতারা ঘোষণা দিয়েছিলেন, তৃণমূলের নেতাদের এই মুহূর্তে বিজেপিতে যোগদান করতে দেওয়া হবে না। দরজা বন্ধ থাকবে। এই ধারা চলবে তিন মাস ধরে; কিন্তু তিন মাস শেষ হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার বিজেপির দরজা খুলে গেল। দলটিতে যোগ দিলেন তৃণমূলের সাবেক তিন রাজ্যসভার সদস্য (এমপি)। তাঁরা হলেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইক।
বিকেলে কলকাতার নিউটাউনে বিজেপির প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এই তিন নেতা বিজেপিতে যোগ দেন। এ সময় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই তিন নেতার গলায় উত্তরীয় পরিয়ে দেন। আর হাতে তুলে দেন বিজেপির পতাকা। তাঁরা বলেন, বিজেপির উন্নয়নধারার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করার জন্য বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
২৪ জুলাই রাজ্যসভার পশ্চিমবঙ্গের তিন শূন্য আসনে উপনির্বাচন হতে চলেছে। জল্পনা চলছে, সেই তিন আসনে কি বিজেপিতে যোগ দেওয়া তৃণমূলের সাবেক এই তিন সংসদ সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়া হবে?
এবারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল জিতেছিল ৮০টি আসনে। সেই আসনের মধ্যে ৬৫ আসনের বিধায়কেরা মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে দল ছেড়ে নতুন জোট করেছে; আর লোকসভার ৪২ আসনের মধ্যে তৃণমূলের থাকা ২৮ আসনের মধ্যে তৃণমূলের সঙ্গে বিদ্রোহ করেছেন ২০ জন সংসদ সদস্য। তৃণমূলের এই চরম দুর্দিনে এবার এই দলের সাবেক তিন সংসদ সদস্য বিজেপিতে যোগ দিলেন।