একটি গ্রাম থেকে ৭৫ বছর পর কেউ একজন সরকারি চাকরি পেয়েছেন। সেই খবরে গ্রামে এখন আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে গ্রামে এ সুখবর আসতেই গ্রামবাসী নিজেদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করে, আবির মাখিয়ে, নেচে–গেয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন। গ্রামটি ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বিহার রাজ্যের। গ্রামের অনেকেই পড়ার জন্য বড় বড় শহরে গিয়েছেন। কিন্তু এত বছরে কেউই একটি সরকারি চাকরি জোটাতে পারেননি। বিবিসির খবর
এই চাকরি পাওয়া ব্যক্তির নাম রাকেশ কুমার। বয়স ৩০ বছর। তিনি একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। দেশটিতে সরকারি চাকরি সর্বোচ্চ পছন্দের তালিকায়। বেতন–ভাতার নিশ্চয়তা ও সুবিধাদির বিবেচনায় সরকারি চাকরি তাঁদের কাছে সোনার হরিণ।
রাকেশ কুমারের চাকরি হয়েছে বারকুরোয়া জেলার বারকুরোয়া গ্রামে। এই জেলাতেই তাঁর নিজের গ্রাম সোহাগপুর। সোহাগপুরেও একটি সরকারি স্কুল আছে। তবে এখানকার শিক্ষকেরা রাজ্যের অন্যান্য জেলা থেকে এসেছেন।
স্থানীয় নেতা দেবেন্দ্র চৌধুরী বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে সোহাগপুর গ্রামের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভালো বেতনের চাকরির আশা করে গেছে। কিন্তু এটি পাওয়ার জন্য খুব কমই সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা। অনেক শিক্ষার্থীই পড়াশোনার জন্য কাছের বড় বড় শহরে গিয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ সরকারি চাকরি জোটাতে পারেননি।
দেবেন্দ্র বলেন, রাকেশ কুমারের এই সফলতার মধ্য দিয়ে অবশেষে গ্রামের দুর্ভাগ্যের কালো মেঘ কেটে গেছে এবং তরুণ প্রজন্ম এ থেকে উৎসাহিত হবে।
রাকেশ কুমার বিবিসিকে বলেন, নিজের গ্রামকে গর্বিত করতে পেরে আনন্দিত বোধ করছেন তিনি। তবে এ যাত্রা তাঁর জন্য সহজ ছিল না বলেও উল্লেখ করেন।
রাকেশ কুমারের বাবা একজন মুদিদোকানি। কুমার যখন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তখন তাঁকে পড়ার জন্য যেতে হতো ২০ মাইল দূরে মুজাফ্ফরপুর শহরে। সাইকেলে চালিয়ে প্রতিদিন ২০ মাইল করে ৪০ মাইল পথ তাঁকে পাড়ি দিতে হতো। ২০১৬ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর পরিস্থিতি তাঁর জন্য আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে তিনি বলেন, পড়ার খরচ চালানোর জন্য, তিনি স্থানীয় বাচ্চাদের পড়ানো শুরু করেন। কারণ, তার খরচ চালানোর কেউ ছিল না। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমি আমার বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছি। তিনি চেয়েছিলেন আমি একজন ডাক্তার বা একজন শিক্ষক হই। এখন আমি তাঁর স্বপ্ন পূরণ করেছি।’
রাকেশ কুমার মনে করেন, এই চাকরি তাঁর জন্য নতুর দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছে। এখন তিনি উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারী হওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।