
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর গত মে মাসের শুরুতে বিজ্ঞপ্তি জারি করে গবাদিপশু জবাইয়ের ওপর কড়া শর্তাবলি আরোপ করা হয়। বলা হয়, ১৪ বছরের বেশি বয়সী কিংবা কায়িক পরিশ্রম ও প্রজননে সম্পূর্ণ অক্ষম গবাদিপশু ছাড়া অন্য পশু জবাই করা নিষিদ্ধ। যার প্রভাব পড়েছে মাংস ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষের ওপর।
এমন দুঃসময় যে জীবনে আসবে, তা কল্পনাও করেননি ফিরোজ আলম। অথচ কয়েক মাস আগেও হাওড়ার শিবপুরে তাঁর দোকানে ক্রেতার আনাগোনা ভালোই ছিল। প্রতিদিন আট-দশ কেজি মাংস অনায়াসে বিক্রি হয়ে যেত তখন। কিন্তু ভোটের পরে প্রায় রাতারাতি বদলেছে পরিস্থিতি। সরকারি নির্দেশে কসাইখানা বন্ধ থাকার ফলে দুই পুরুষের ব্যবসা এবার লাটে ওঠার জোগাড়। স্বামী-স্ত্রী, বৃদ্ধ মা আর তিন সন্তানের পরিবারের দুবেলা খাবার জোগাতেই কঠিন পরিস্থিতি ফিরোজের।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় হুগলি সেতু পেরিয়ে ব্যাতাইতলা বাজারের কাছাকাছি দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ ইনস্টিটিউশনের সামনে নাম বলতেই ফিরোজের দোকানের হদিস দিলেন চা-দোকানি। কাজিপাড়া মোড় থেকে বাঁ দিকের রাস্তা ধরে কিছুটা এগোতেই সরু গলিতে ঢোকার মুখে হাসিমুখে এগিয়ে এলেন বছর ত্রিশের যুবক।
আড়াই দশক আগে এই গলিতেই একচিলতে দোকানে মাংস বিক্রি করতেন তাঁর বাবা। পাঁচ বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর দোকানের হাল ধরেছেন ফিরোজ। পাশের দোকানে বসেন তাঁর মামা। ব্যবসায়িক রেষারেষি নয়, বরং পরস্পরকে বরাবর তাঁরা সাহায্য করে এসেছেন। ফিরোজ জানালেন, ‘পালা করে টিকিয়াপাড়ার কসাইখানা থেকে আমরা মাংস আনি। ওখানে পরপর বড় পাইকারদের দোকান। হোটেল-রেস্তোরাঁয় ওখান থেকেই রোজ মাংস যায়, তবে কসাইখানা বন্ধ হওয়ার পরে প্রতিদিন সব দোকান এখন খোলার অবস্থায় নেই।’
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে গত মে মাসের শুরুতে নতুন নির্দেশনা জারি করে গবাদিপশু জবাইয়ের ওপর কড়া শর্তাবলি আরোপ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এরপর রাজ্যে গবাদিপশুর মাংসের বাজার ঘিরে নজিরবিহীন আর্থিক ও সামাজিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা ও নিয়মকানুন আরোপের ফলে কসাইখানাগুলোতে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ বাধ্যতামূলক করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পুরো মাংস সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৪ বছরের বেশি বয়সী কিংবা কায়িক পরিশ্রম ও প্রজননে সম্পূর্ণ অক্ষম গবাদিপশু ছাড়া অন্য পশু জবাই করা নিষিদ্ধ। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে এই সংক্রান্ত ছাড়পত্র দেওয়ার দায়িত্ব যৌথভাবে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং সরকার অনুমোদিত ভেটেরিনারি সার্জনকে।
প্রায় এক মাস কসাইখানা বন্ধ। দোকান চালানোর জন্য ঘুরপথে মাংস আনতে হচ্ছে, নানান কারণে দামও চড়া।ফিরোজ আলম, মাংস বিক্রেতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
এই প্রশাসনিক জটিলতা ও নিয়মের কঠোর প্রয়োগের ফলে কলকাতার ট্যাংরা অঞ্চলের সরকারি কসাইখানাসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা পশু জবাই কেন্দ্রগুলোতে গবাদিপশুর জোগান তলানিতে এসে ঠেকেছে। নতুন বিধিনিষেধ চালু হওয়ার পরে জবাইয়ের জন্য আনা পশুর অর্ধেকের বেশি স্বাস্থ্য ছাড়পত্র না পাওয়ায় তাদের ফেরত পাঠিয়ে দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মীরা। এর ফলে বাজারে দৈনন্দিন মাংস সরবরাহে টান পড়েছে।
প্রসঙ্গত, পঞ্চম জাতীয় পারিবারিক ও স্বাস্থ্য সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতের সর্বাধিক আমিষপ্রধান রাজ্যের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এই রাজ্যের প্রায় ৯৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন রকমের মাছ, মাংস ও ডিম রাখা হয়। গড় পরিবারে মাসিক খরচের প্রায় ২০ শতাংশ মাংস ও মাছের জন্য খরচ করার প্রবণতা দেখা যায়। এমনকি গত পাঁচ বছরে রাজ্যে ডিম ও প্রাণিজ প্রোটিনের ব্যবহার প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে বলেও জানানো হয়েছে ওই সমীক্ষায়।
সম্প্রতি ভিনরাজ্যবাসী এক হিন্দু ধর্মগুরু দুর্গাপূজায় বাঙালির আমিষ খাওয়া নিয়ে সমালোচনা করলে তাঁর বিরুদ্ধে জনমানসে তীব্র বিক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আসন্ন উৎসবের মৌসুমের ঠিক আগেই সরকারি নির্দেশের জেরে কসাইখানা অচল হওয়ায় চিন্তায় রয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষই। এরই মধ্যে নবরাত্রি উপলক্ষে দেবীপক্ষে মাংসের দোকান বন্ধ রাখার গুজবে তোলপাড় শুরু হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। যদিও এখন পর্যন্ত এমন কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করার কথা অস্বীকার করেছে রাজ্য প্রশাসন।
নতুন বিধিনিষেধ চালু হওয়ার পর জবাইয়ের জন্য আনা পশুর অর্ধেকের বেশি স্বাস্থ্য ছাড়পত্র না পাওয়ায় তাদের ফেরত পাঠিয়ে দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মীরা। এর ফলে বাজারে দৈনন্দিন মাংস সরবরাহে টান পড়েছে।
পশু জবাই স্থগিত রাখার ফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন ক্ষুদ্র মাংস বিক্রেতা, কসাই এবং স্থানীয় হাটের খুচরা ব্যবসায়ীরা। কলকাতা, হাওড়াসহ আশপাশের জেলাগুলোর বাজারে কয়েক দশক ধরে চালু ছোট ছোট মাংসের দোকানগুলো চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাংসের জন্য গবাদিপশু কেনা এবং প্রশাসনিক ছাড়পত্র জোগাড়ের জটিল প্রক্রিয়া। প্রান্তিক এলাকা থেকে পশু কিনে শহরে আনা, তার সঠিক বয়স ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সনদ জোগাড় করা এবং পৌরসভার নির্দিষ্ট কসাইখানায় নিয়ে যাওয়া—এই গোটা প্রক্রিয়ায় সময় ও খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যায় বলে দাবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।
এ বিষয়ে হাওড়ার কাজিপাড়া এলাকার মাংস বিক্রেতা ফিরোজ আলম বলেন, ‘আমরা মাংস আনতাম টিকিয়াপাড়ার কসাইখানা থেকে। কিন্তু গত প্রায় এক মাস কসাইখানা বন্ধ রয়েছে। আবার কবে তা চালু হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। এর ফলে দোকান চালানোর জন্য ঘুরপথে মাংস আনতে হচ্ছে, নানান কারণে যার দামও চড়া। তার জেরে মাংসের যে দাম দাঁড়াচ্ছে, তাতে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র ক্রেতাদের পক্ষে কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।’
সরকারি কসাইখানায় কড়াকড়ির ফলে বাজারের চাহিদা মেটাতে অবৈধভাবে পশু জবাই করা হচ্ছে বলে জানালেন হাওড়ার আরেক মাংস বিক্রেতা মুনাব্বর আলী। তাঁর দাবি, টিকিয়াপাড়ার ঝাঁপ আপাতত বন্ধ থাকায় আরামবাগ, উলুবেড়িয়া, দত্তপুকুর ও বারাসতের একাধিক জায়গায় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গরু ও মহিষ জবাই করা হচ্ছে।
সরকারি কসাইখানা বন্ধ। এর মাঝে দুবার চালু হবে বলেও শেষ পর্যন্ত হয়নি। জানি না, আর কত দিন এভাবে লড়াই করে দোকান খোলা রাখতে পারব।শমসের আলম, মাংস ব্যবসায়ী, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
লোকালয়ের বাইরে ফাঁকা মাঠ ও শস্যখেতে সাধারণত ভোরবেলায় এমন পশু জবাই করা হয়। তবে তার আগে স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ও আইনরক্ষক বাহিনীর একাংশের সঙ্গে কথা বলে সব আটঘাট বেঁধে নেওয়া হয় অবশ্যই আর্থিক লেনদেনের সুবাদে। এই সমস্ত ভুঁইফোড় কসাইখানা থেকে সেই মাংস পিকআপ ভ্যান অথবা ছোট ট্রাকে ত্রিপলে ঢেকে দোকানে বয়ে আনেন বিক্রেতারা। আসার পথেও রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশকে গাড়িপিছু দশ থেকে বারো হাজার টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া এলাকায় গরু-মহিষের মাংস বিক্রি করার ‘অনুমোদন’ পেতে নিয়মিত স্থানীয় থানাকে ‘সন্তুষ্ট’ রাখতে হয় বলেও তাঁর দাবি।
সরকারি কসাইখানার বাইরে থেকে বাড়তি দরে পণ্য কেনার পাশাপাশি এই ধরনের বাড়তি খরচ মেটাতে হয় বলে মাত্র তিন–চার মাসে মাংসের দাম বেড়ে গেছে। ফিরোজের কথায়, ‘গত ঈদের আগেও গরু বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২৫০ টাকায়। কিন্তু কসাইখানা বন্ধ হওয়ার পরে এখন তার দাম উঠেছে কেজিতে ৩৫০-৩৬০ টাকা।’ একই কারণে গরুর মাংসের পাশাপাশি বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মহিষের মাংসও।
ফিরোজ ও মুনাব্বরের মতোই সরকারি নিষেধাজ্ঞার জেরে ব্যবসা লাটে ওঠার জোগাড় হয়েছে পার্ক সার্কাসের মাংস বিক্রেতা ইদ্রিস আলীর। প্রায় এক যুগ ধরে এই পেশায় থাকা ইদ্রিস আগে কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়েননি। তবে অনুমোদিত কসাইখানার বাইরে পশু জবাইয়ের কারবার বেশি দিন স্থায়ী হবে বলে মনে করেন না তিনি।
ভুঁইফোড় কসাইখানা থেকে মাংস ত্রিপলে ঢেকে দোকানে নেওয়ার পথে রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশকে গাড়িপিছু দশ থেকে বারো হাজার টাকা দিতে হয়। এলাকায় গরু-মহিষের মাংস বিক্রি করার ‘অনুমোদন’ পেতে নিয়মিত স্থানীয় থানাকে ‘সন্তুষ্ট’ রাখতে হয়।
ইতিমধ্যে অবৈধ জবাইখানা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে নিয়মিত তল্লাশি অভিযানে নেমেছে পুলিশ, চলেছে ধরপাকড়ও। এই কারণে মাংস সরবরাহে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে প্রায়ই। এর ফলে বেশ কিছু কম পুঁজির বিক্রেতা মূলধন খুইয়ে রাতারাতি ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তোপসিয়ার এক দোকানমালিক। একই কারণে কলকাতার ধর্মতলা এলাকার ঐতিহাসিক নিউমার্কেটেও একের পর এক মাংসের দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন বিক্রেতারা।
সরবরাহে এই বিপুল ঘাটতির কারণে শহরের একাধিক জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ তাদের গরুর মাংসের বেশ কিছু জনপ্রিয় পদ তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে। মাংসের জোগানের অভাবে নিজামস, জমজম, অলিপাব বা মোকাম্বোর মতো বহু ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁয় বিফ রোল, বিফ বিরিয়ানি বা বিফ স্টেক অর্ডার করে হতাশ হচ্ছে মানুষ। বিকল্প হিসেবে খাসি বা মুরগির মাংসের পদ রেঁধেও বিশেষ সুরাহা হচ্ছে না বলে দাবি বেকবাগান অঞ্চলের এক রেস্তোরাঁ মালিকের। পাঁচতারা হোটেলের ভোজনশালাগুলোতে পরিস্থিতি সামলাতে অনলাইনে বিফ কিনতে হচ্ছে চড়া দরে, জানিয়েছেন আলীপুর অঞ্চলের এক জনপ্রিয় হোটেলের হেঁশেলের দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা। তবে এভাবে কত দিন গরুর মাংসের পদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে, তাই নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে মধ্য কলকাতায় কয়েকটি পথের ধারের দোকানে গরুর বিকল্প হিসেবে মহিষের মাংস দিয়ে কাবাব, রেজালা, টিকিয়া, ভুনা ইত্যাদি তৈরি হচ্ছে, যদিও তাতে বিফের মতো স্বাদ খুলছে না বলে অভিযোগ দমদমের জনপ্রিয় এক ফুড ভ্লগারের। তাঁর দাবি, এই সুযোগে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বেশ কিছু রেস্তোরাঁ বিফের নামে অবাধে ‘বাফ’ অর্থাৎ মহিষের মাংস চালিয়ে দিচ্ছে।
গরুর মাংসের এমন সংকটের ধাক্কা কেবল মানুষ নয়; সমস্যায় ফেলেছে বাঘ, সিংহ, লেপার্ডের মতো আলীপুর চিড়িয়াখানার মাংসাশী বাসিন্দাদেরও। টাংরার কসাইখানায় মহিষ ও অন্যান্য গবাদিপশুর জবাই বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়ার ফলে টান পড়েছে ওই পশুদের নিত্য খোরাকিতে। চিড়িয়াখানায় মহিষের মাংস সরবরাহকারী সংস্থাগুলো তাদের নিবন্ধন নবায়ন ও জোগান বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় বাধ্য হয়ে মাংসাশী প্রাণীদের খাদ্য জোটাতে চার গুণ বেশি দামে খাসির মাংস কিনতে হচ্ছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে। এর জেরে সরকারি চিড়িয়াখানায় খাদ্যের পেছনে বরাদ্দ বাজেট রাতারাতি আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে, যা আখেরে প্রশাসনিক স্তরে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।
সরকারি কসাইখানার বাইরে থেকে বাড়তি দরে পণ্য কেনার পাশাপাশি নানা বাড়তি খরচ মেটাতে হয় বলে মাত্র ৩-৪ মাসে মাংসের দাম বেড়ে গেছে। গত ঈদের আগেও গরু বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২৫০ টাকায়। এখন দাম উঠেছে ৩৫০-৩৬০ টাকা।
সরকারি নির্দেশে কসাইখানা বন্ধ থাকার জেরে মাংস বিক্রেতা ছাড়াও কঠিন হয়ে পড়েছে আনুষঙ্গিক আরও অনেকের জীবনযাপনের সংগ্রাম। সেই তালিকায় রয়েছেন ছোট ব্যবসায়ীরা, যাঁদের সিংহভাগই সনাতন ধর্মাবলম্বী। মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বাছুর কিনে পালন করে পূর্ণবয়স্ক গবাদিপশু বিক্রি করে তাঁদের সংসার চলত।
সরকারি নোটিশে পশু জবাইয়ের ওপর শর্ত চাপানোর ফলে লাভের বদলে তাঁদের কাঁধে চেপেছে দেনার বোঝা। সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে গবাদিপশু কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত গ্রামীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়ার কারণে। গ্রামীণ অঞ্চলের যে কৃষকেরা বয়স্ক বা অকেজো গবাদিপশু বিক্রি করে নতুন গবাদিপশু কেনা বা পরিবারের প্রয়োজনে টাকার সংস্থান করতেন, তাঁরাও এখন ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছেন না। হাটে গবাদিপশু বেচাকেনা কমে যাওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চামড়াশিল্প ও ট্যানারিগুলোতে কাঁচামালের মারাত্মক অভাব। তার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কসাইখানা থেকে মৃত পশুর চামড়া সংগ্রহ করে ট্যানারিতে সরবরাহকারী বহু ছোট মাপের কারবারিও।
সরকারি নিষেধাজ্ঞার ফলে মাংসের বিপণি থেকে রেস্তোরাঁ এবং আনুষঙ্গিক বিভিন্ন ব্যবসা যে কঠিন সমস্যায় পড়েছে, তার সুরাহা কোন পথে হবে, তাই নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আশার আলো দেখা যায়নি বলে আক্ষেপ টিকিয়াপাড়ার এক বিক্রেতার। ‘সরকারি কসাইখানা বন্ধ। এর মাঝে দুই বার চালু হবে বলেও শেষ পর্যন্ত হয়নি। জানি না, আর কত দিন এভাবে লড়াই করে দোকান খোলা রাখতে পারব’, বলছিলেন স্থানীয় কারবারি শামসের আলম। আর কাজিপাড়ার ফিরোজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘হয়তো এবার রিকশা চালানো ছাড়া আর কোনো উপায়ই থাকবে না।’