
বছরের শেষ দিনে বৈঠকে বসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দূষণ থেকে গঙ্গাকে বাঁচাতে ভারতে একটি জাতীয় গঙ্গা পরিষদ রয়েছে। সেই পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতেই ৩০ ডিসেম্বর কলকাতায় আসছেন মোদি। এ বৈঠকের পাশাপাশি মোদি-মমতার পৃথক বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ফোন করে পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে বলেছেন এবং তিনি ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।
পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও যেসব রাজ্য দিয়ে গঙ্গা গেছে যেমন উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, বিহার, ঝাড়খণ্ডসহ মোট ১১টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ৩০ ডিসেম্বরের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন।
২০২২ সালে বিজেপি-তৃণমূল সম্পর্ক
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সম্প্রতি এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে যা থেকে মনে করা হচ্ছে কেন্দ্রে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকারের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকারের সম্পর্ক বছরের শেষে স্থিতাবস্থায় রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গত শনিবার একান্ত বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাশাপাশি, পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে, কেন্দ্রের কাছ থেকে রাজ্যের পাওনা টাকার বিষয়টি তুলে ধরেছেন মমতা। বিষয়টিকে কেন্দ্র সরকার বিবেচনা করছে এবং করবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর পাশাপাশি ভারতের অসংখ্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’ অর্থাৎ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রকল্পটি কেন্দ্র সরকারের সর্বোচ্চ পুরস্কার পেয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের আট শরও বেশি প্রকল্প মনোনীত হওয়ার পরেও, শেষ পর্যন্ত পুরস্কার পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’।
তবে একই সঙ্গে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বকে এই সপ্তাহেই দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়ে অমিত শাহ। আগামী বছরের পঞ্চায়েত নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে জোরদার প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল পার্লামেন্টে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর রাজ্যে ক্ষমতার এক্তিয়ার নিয়ে বিতর্কে তৃণমূলের আচরণে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন তিনি।
কিন্তু অন্যদিকে রাজ্য এবং কেন্দ্রের মধ্যে আলাপ-আলোচনা কিন্তু চলছে। অথচ বছরের গোড়ার দিকে মনে হয়েছিল যে কেন্দ্র সরকার তার বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্যে দুর্নীতির তদন্তের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলকে বিপর্যস্ত করে সরকার ফেলতে চাইছে। এমনটা কিন্তু আর বছরের শেষে মনে হচ্ছে না।
বস্তুত, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এক জনসভায় পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী গতকাল বুধবার বলেছেন, তৃণমূলের এমএলএ ভাঙিয়ে সরকার তারা ফেলতে চান না। তিনি বলেন, ভোটে জিতেই রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। সপ্তাহ খানেক আগে তিনি অবশ্য বলেছিলেন, ডিসেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গে বড় ধরনের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটবে। গতকাল তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো কথা তিনি বলেননি। মনে করা হচ্ছে এ সপ্তাহের গোড়ায় দিল্লিতে ডেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তৃণমূলবিরোধী ভিত্তিহীন মন্তব্য করা থেকে তাঁকে বিরত থাকতে বলেছেন।
এ অবস্থায় মোদি ও মমতার বৈঠক হতে চলেছে। আশা করা হচ্ছে এ বৈঠকে আলোচিত প্রধান বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।