
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় একাধিক বিক্ষোভের মুখোমুখি হতে পারেন। ওয়াশিংটন থেকে সেই আভাস পাওয়া গিয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মানবাধিকার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংগঠন ২২ জুন হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসবেন।
মানবাধিকার আন্দোলনকর্মীরা ইতিমধ্যেই তাঁদের স্লোগান বেছে নিয়েছেন। প্ল্যাকার্ড, ব্যানারও তৈরি করেছেন। তাতে লেখা থাকবে ‘মোদি স্বাগত নন’ এবং ‘হিন্দু আধিপত্যের হাত থেকে ভারতকে রক্ষা করো’।
ওয়াশিংটন থেকে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কেও এ ধরনের বিক্ষোভ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখানে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে যার শিরোনাম ‘হাউডি ডেমোক্রেসি’। ২০১৯ সালে টেক্সাসে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে প্রবাসী ভারতীয়দের এক অনুষ্ঠানে মোদি উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই ছিল এই স্লোগান ‘হাউডি মোদি’। ওই অনুষ্ঠানের আদলেই আয়োজন করা হচ্ছে বিক্ষোভ অনুষ্ঠান ‘হাউডি ডেমোক্রেসি’।
সেই ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাত উঁচু করে তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিন্দিতে ‘আব কি বার, ট্রাম্প সরকার’ স্লোগান দিয়েছিলেন। ভোটে অবশ্য ট্রাম্প পরাস্ত হন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গা নিয়ে তৈরি বিবিসির তথ্যচিত্রটি দেখানোর আয়োজন করেছে। তাতে সাংবাদিক, নীতি নির্ধারক ও বিশ্লেষকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই তথ্যচিত্রটি ভারতে যাতে দেখানো না হয় সে জন্য মোদি সরকার সচেষ্ট হয়েছিল। তথ্যচিত্রে বলা হয়েছে, মোদিকে জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা দিতে গুজরাট দাঙ্গা প্রভূত সাহায্য করেছে।
কাকতালীয়ভাবে মোদি বিরোধী বিক্ষোভের খবর জানাজানি হওয়ার দিনেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর সফরের কর্মসূচি প্রকাশ করেছে। শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি এই সফর শুরু করবেন নিউইয়র্ক থেকে। ২১ জুন জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন তিনি। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ সভা ২১ জুন দিনটি আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
নিউইয়র্ক থেকে পরের দিন মোদি যাবেন ওয়াশিংটন ডিসি। সেখানে হোয়াইট হাউসে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানাবেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। তার পরেই শুরু হবে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা। ওই দিনই মোদির সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও তাঁর স্ত্রী জিল বাইডেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংসদের যৌথ অধিবেশনেও ওই দিন ভাষণ দেবেন মোদি। পরের দিন ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।
সরকারি অনুষ্ঠান ছাড়াও এই সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি আলাপ–আলোচনা করবেন বিভিন্ন সংস্থার সিইও ও পেশাজীবী মানুষজনের পাশাপাশি প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গেও।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রী মোদি ২৪ ও ২৫ তারিখ সরকারি সফরে মিসরে যাবেন। এটাই মোদির প্রথম মিসর সফর।
মোদি যতবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন প্রতিবারই তাঁকে বিক্ষোভের সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু এবারের আয়োজন অন্যবারের তুলনায় অনেক বেশি বলে বিভিন্ন সূত্রের খবর। অসমর্থিত খবর অনুযায়ী এই সফরে মোদি শিকাগো যাবেন ঠিক করেছিলেন। কিন্তু নানা কারণে তা বাতিল করা হয়।
গণতন্ত্র, মানবাধিকার রক্ষা, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রভৃতি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রাটেরা অনেক সরব ও সক্রিয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংগঠনের চোখে ভারতের অবস্থান মোদি জমানায় অনেক খারাপ হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তাঁর সফরে সরকারের এই সব ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে একের পর এক অনুষ্ঠানে প্রশ্ন তুলেছেন।
যদিও মনে করা হচ্ছে, এই সফরে সব কিছু ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠবে প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত চুক্তি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারত ৩১ টি সশস্ত্র ড্রোন কিনবে। ৩০০ কোটি ডলারের সেই চুক্তি এই সফরে সম্পাদিত হবে। জেনারেল ইলেক্ট্রিক ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা ‘হ্যাল’–এ প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে যৌথ উদ্যোগে তৈরি করতে চাইছে ‘তেজস’ যুদ্ধ বিমানের ইঞ্জিন। এই সফরে সেটাও চূড়ান্ত হওয়ার কথা।