পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়

উপনির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২৬তম রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিধানসভার ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৮ আসন পেয়ে বিপুল ভোটে জিতেছে বিজেপি। তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন। এই নির্বাচনে বিজেপির জয় ও তৃণমূলের পরাজয়ের পর ভাঙন শুরু হয় তৃণমূলে। তৃণমূলের জয়ী ৮০ বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন বিধায়ক তৃণমূল ছেড়ে আলাদাভাবে তৃণমূল গড়েন। এর নেতৃত্ব দেন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলকে রাজ্যের বিরোধী দলের স্বীকৃতি দিয়ে বিরোধী দলের নেতা করা হয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

এ বছর নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী দুটি আসনে জেতেন—কলকাতার ভবানীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসন। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও নওদা আসনেও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর জেতেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাত্র একটি আসন ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর কাছে হেরে যান। ফলে বিধানসভার আসন থেকে শূন্য হয়ে যান মমতা।

বিধানসভা নির্বাচনে জেতার পর শুভেন্দু নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দেন। আর হুমায়ুন কবীর ছেড়ে দেন নওদা আসন। আগামী ৬ অক্টোবর শুভেন্দু ও হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে দেওয়া এই আসনগুলোতে উপনির্বাচন হচ্ছে।

সেই উপনির্বাচন ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। বিজেপি চাইছে এ দুটি আসনে জয়লাভ করে তাদের শক্তি জাহির করতে। তৃণমূলও চাইছে মমতার ভাবমূর্তিকে সম্বল করে নির্বাচনে লড়ে জিততে। আর কংগ্রেস ও বাম দলও এবার চাইছে ওই দুটি আসনে বিজেপি এবং তৃণমূলকে পরাজিত করে জয়ী হতে। এই লক্ষ্য নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর্ব চলছে বিভিন্ন দলের।

এই শূন্য দুই আসনে উপনির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর। আর এই নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই বিবদমান শিবির, জাতীয় কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল কংগ্রেস এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টি তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বিজেপি এখনো ঘোষণা করেনি। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের শূন্য আসনের মধ্যে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী করেছে মিলন প্রধানকে। আর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। সিপিএম প্রার্থী করেছে শান্তি গোপাল গিরিকে।

নন্দীগ্রাম আসনে বিজেপির প্রার্থী করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সাবেক আপ্ত সহায়ক বা পিএস চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানী রথকে। চন্দ্রনাথ খুন হন এবারের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর উত্তর চব্বিশ পরগনার মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতকারীদের হাতে।

আর মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে দেওয়া আসনে প্রার্থী করা হয়েছে হুমায়ুনের পুত্র গোলাম নবী আজাদকে। হুমায়ুন কবীর রেজিনগরে বাবরি মসজিদ তৈরির ঘোষণা দিয়ে প্রচারের আলোতে চলে আসেন। অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী করেছে রবিউল আলম চৌধুরীকে। কংগ্রেস করেছে আবদুল্লাহ হিল কাফিকে। সিপিএম প্রার্থী করেছে সইফ আসাদ আলীকে। আর তৃণমূলের বিদ্রোহী অংশ ঋতব্রত নন্দীগ্রামে প্রার্থী করেছেন এহতেশামুল হক ও রেজিনগরে প্রার্থী করেছেন শফিউদ্দিন শেখকে।

বুধবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ থাকলেও তৃণমূলের জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে তৃণমূলের বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। এ দুই দলই তৃণমূলের জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে লড়তে চাইছে। জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির পর এ দুই শিবিরের দাবি নিয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশনে উভয় পক্ষের ৫ জন করে ১০ সদস্যের শুনানি হলেও এখনো নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ঘোষণা করেনি জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে কে লড়বে।

নির্বাচন কমিশন দুই দলের কাছে ফের নথিপত্র চেয়েছে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। সেই নথিপত্র জমা দেওয়ার পরই নির্বাচন কমিশন নতুন করে সিদ্ধান্ত জানাতে পারে কে লড়বেন জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে, নাকি জোড়া ফুলকে ফ্রিজ করে নতুন করে বিবদমান দুই দলকে আলাদা প্রতীক নিয়ে লড়ার নির্দেশ দেবে।