লরেন্স বিষ্ণোই
লরেন্স বিষ্ণোই

অমিত শাহর এক আদেশের কারণেই কি গ্যাংস্টার বিষ্ণোইকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারছে না মুম্বাই পুলিশ

ভারতের বিনোদন জগতে এখন এক আতঙ্কের নাম লরেন্স বিষ্ণোই, বিশেষ করে বলিউডে। গত তিন বছরে মুম্বাইয়ে অন্তত চারটি বড় অপরাধের সঙ্গে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ ১৮ অক্টোবর বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যরা জড়িত থাকার খবর আসে। বলিউডের আরেক অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে ওই হামলা হয়েছিল বলেও বলা হয়।

পরপর কয়েকটি হামলার ঘটনায় নাম আসার পরও মুম্বাই পুলিশ গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারছে না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে।

মুম্বাই পুলিশের বিষ্ণোইকে হাতে না পাওয়ার কারণ ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশ। বিষ্ণোই এখন গুজরাটের আহমেদাবাদের সবরমতি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁকে কারাগারের বাইরে নেওয়ার ওপর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিধিনিষেধ রয়েছে। অন্য তদন্ত সংস্থার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রেও বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়।

অমিত শাহর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের আগস্টে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৮ ধারার আওতায় ওই আদেশ জারি করে। এতে অন্য কোনো সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লরেন্স বিষ্ণোইকে কারাগার থেকে বাইরে নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়।

পরে ফৌজদারি কার্যবিধির জায়গায় কার্যকর হওয়া ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ৩০৩ ধারার আওতায় ওই আদেশের মেয়াদ সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে।

অমিত শাহর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের আগস্টে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৮ ধারার আওতায় একটি আদেশ জারি করে। এতে অন্য কোনো সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লরেন্স বিষ্ণোইকে জেল থেকে বাইরে নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়।

ওই আদেশের কারণে আদালতের জারি করা সাধারণ হাজিরা পরোয়ানা এবং বিষ্ণোইকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিভিন্ন সংস্থার আবেদন কার্যকর করা যায় না।

কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং তাঁকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়ার সময় সহিংসতার ঝুঁকি এড়াতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

লরেন্স বিষ্ণোইকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলে কোনো সংস্থা উপযুক্ত আদালতের নির্দেশে কেবল ভিডিও লিংকের মাধ্যমে অথবা জেল প্রাঙ্গণেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।

এভাবে সুরক্ষা পাওয়া আলোচিত বন্দীদের মধ্যে লরেন্স বিষ্ণোই প্রথম নন।

২০১৫ সালে ‘আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন’ ছোটা রাজনকেও একই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। ইন্দোনেশিয়ায় গ্রেপ্তারের পর ভারতে ফেরত পাঠানো হলে তাঁকে দিল্লির তিহার জেলে রাখা হয়।

গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিহারে কারাভোগরত রাজন দাবি করেছিলেন, তাঁকে মুম্বাইয়ে নেওয়া হলে তাঁর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাঁর অভিযোগ ছিল, মুম্বাই পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী দাউদ ইব্রাহিমের হয়ে কাজ করেন।

গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিহারে কারাভোগরত রাজন দাবি করেছিলেন, তাঁকে মুম্বাইয়ে নেওয়া হলে তাঁর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাঁর অভিযোগ ছিল, মুম্বাই পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী দাউদ ইব্রাহিমের হয়ে কাজ করেন।

লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাই আনমোলও দিল্লির তিহার জেলে বন্দী। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাঁকে ভারতে ফেরত পাঠানোর পর থেকে তাঁকেও একই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

পাঞ্জাব থেকে রাজস্থান, মহারাষ্ট্র এমনকি বিদেশেও লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে তিনি আহমেদাবাদের সাবরমতি কারাগারে বন্দী আছেন। এ সময়ের মধ্যে তাঁর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জেলের বাইরে থাকা বিভিন্ন মানুষকে হত্যার ও নানা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও তিনি সাবরমতি কারাগারেই রয়েছেন।

লরেন্স বিষ্ণোই? কেন তাঁর সালমান খানের সঙ্গে শত্রুতা

২০২৪ সালের এপ্রিলে মুম্বাই পুলিশের কাছে বিষ্ণোই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। ওই সময় বান্দ্রায় অভিনেতা সালমান খানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে তাঁর গ্যাংয়ের ভাড়া করা হামলাকারীরা গুলি চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশের ভাষ্য, অভিনেতাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল।

দীর্ঘদিন ধরেই সালমান খানকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। বিষ্ণোইয়ের গ্যাং বলেছে, টাইগার শ্রফসহ অন্যদের ওপর হামলার কারণও সালমান খানের সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা।

টাইগার শ্রফকে হত্যার চেষ্টা চালানোর পরও গ্যাংটি একই হুমকি দিয়েছে। তারা বলেছে, সালমান খান যদি লরেন্স এবং প্রাণীপ্রেমী বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা না চান, তাহলে ‘আপনার পরিবারের কাউকেই, এমনকি আপনার পোষা কুকুরগুলোকেও আমরা ছাড়ব না।’

কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের একটি মামলায় সালমানের সম্পৃক্ততার কারণে তিনি লরেন্স বিষ্ণোইয়ের রোষের মুখে পড়েন বলে শোনা যায়।