
কুকি-জো উপজাতি অধ্যুষিত ভারতের মণিপুর রাজ্যের পার্বত্য অঞ্চল কয়েক দিন ধরে উত্তপ্ত থাকার পর একটি জঙ্গিগোষ্ঠীর বিবৃতিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ইউনাইটেড কুকি লিবারেশন আর্মি নামের এক জঙ্গিগোষ্ঠী উপজাতি সমাজের তিনজন বিধায়ককে (এমএলএ) সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে।
জঙ্গিগোষ্ঠী সংবাদমাধ্যমে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে এই হুমকি দিয়েছে। তাঁরা হলেন নেমচা কিপগেন, এল এম খাউতে ও নগুরসাঙ্গলুর সানাতে। বিজেপির গঠিত রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভায় এই তিন বিধায়ক যোগ দিয়েছেন।
১৯৯২ সালে গঠিত মণিপুরের প্রভাবশালী জঙ্গিগোষ্ঠী ইউনাইটেড কুকি লিবারেশন আর্মি কুকি-জো সম্প্রদায়ের তিন সদস্যের এমএলএ হিসেবে বিজেপি মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার প্রবল বিরোধিতা করেছে। চলমান জাতিগত সহিংসতার মধ্যে তাঁরা রাজ্য সরকারের পক্ষ নিচ্ছেন বলে ইউনাইটেড কুকি লিবারেশন আর্মির পক্ষে অভিযোগ করা হয়েছে।
তিন বিধায়ককে হুমকি দিয়ে কুকি লিবারেশন আর্মি বলেছে, চলমান জাতিগত সহিংসতার মধ্যে তাদের স্বজাতির এমএলএরা রাজ্য সরকারের, অর্থাৎ বিজেপি সরকারের পক্ষ নিচ্ছেন।
গত শনিবার ইউনাইটেড কুকি লিবারেশন আর্মি তাদের বিবৃতি প্রকাশ করে, যা আজ সোমবার প্রকাশ্যে এসেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মণিপুর সরকার কুকি-জো জনগণের ‘স্বার্থ, জীবন এবং মর্যাদার’ বিরুদ্ধে কাজ করছে। তিন বিধায়ক—নেমচা কিপগেন, এল এম খাউতে ও নগুরসাঙ্গলুর সানাতের নাম করে সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠীটি অভিযোগ করেছে, কুকি-জো সমাজের নির্বাচনী এলাকার জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা রাজ্য সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন; অর্থাৎ স্থানীয় মানুষের আবেগের বিরোধিতা করছেন।
লিবারেশন আর্মি তাদের বক্তব্যকে ‘একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা’ হিসেবে অভিহিত করে তিন বিধায়ককে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে। বিবৃতিতে এমএলএদের সতর্ক করে বলা হয়েছে যে এই নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলে তাঁদের রাজ্য সরকারের ‘সহযোগী’ ও ‘জনগণের শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে ওই তিন বিধায়কের বিরুদ্ধে ‘কঠোর শাস্তির’ হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই ‘কঠোর শাস্তির’ মধ্যে মৃত্যুদণ্ড অন্তর্ভুক্ত বলেও জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যেকোনো সংস্থা বা ব্যক্তির এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। এই নির্দেশের বিরোধিতা করলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া গোষ্ঠীটি ঘোষণা করেছে, কুকি-জো জনগণ বর্তমান সরকারি ব্যবস্থার ওপর ‘আস্থা হারিয়েছে’। মণিপুর থেকে আলাদা একটি রাজনৈতিক প্রশাসনের দাবি তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা মণিপুর রাজ্যের মধ্যে ভারতীয় সংবিধানের অধীনে শাসনকে প্রত্যাখ্যান করে।
তিন দশক আগে নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী ইউনাইটেড কুকি লিবারেশন আর্মি যখন গঠিত হয়, তখন পৃথক প্রশাসনের অধীনে কুকি-জোদের জন্য এমন একটি অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা পরিচালনা করবেন উপজাতীয় সমাজের মানুষ; অর্থাৎ উপজাতি সমাজের মানুষের নিজস্ব রাজ্য বা নির্দিষ্ট অঞ্চল।
২০২৩ সালের আন্দোলনের পর এই দাবি আবার নতুন করে সামনে এসেছে। এখন এটিকে রাজ্যের মধ্যেই ‘পৃথক প্রশাসনের’ দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।