
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নতুন রাজ্যপাল বা গভর্নর দায়িত্ব নিলেন গতকাল বৃহস্পতিবার। কলকাতার রাজ্যপালের দাপ্তরিক কার্যালয় লোকভবনে এক অনুষ্ঠানের মধ্যে এই রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি ওরফে এন রবি দায়িত্ব নেন। নতুন রাজ্যপালকে শপথ গ্রহণ করান কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিভিন্ন দলের নেতা ও বিশিষ্টজনেরা।
এন রবি বিদায়ী রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
শপথ গ্রহণের পর এন রবি বলেন, ‘এই রাজ্যের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে অত্যন্ত ধন্য বোধ করছি।’ রাজ্যপাল আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ এমন এক মহান ভূমি, যা কয়েক হাজার বছর ধরে ভারতের আধ্যাত্মিক, বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত।’ তিনি বলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশাল মাপের এক কবি এবং চিন্তাবিদ ছিলেন এই বাংলার।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ঋষি অরবিন্দ, শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো স্বাধীনতাসংগ্রামীদের স্মরণ করেন রাজ্যপাল এবং তাঁদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। রাজ্যপাল এন রবি এর আগে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল ছিলেন।
আগের রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস ৫ মার্চ হঠাৎ পদত্যাগ করেন।
এন রবির জন্ম ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনায় ১৯৫২ সালের ৩ এপ্রিল। তিনি ছিলেন পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকতা, আইপিএস। তিনি হলেন এই রাজ্যের ২২তম রাজ্যপাল। তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ব্যুরোয় শীর্ষ কর্মকর্তার পদে কাজ করেছেন। জম্মু কাশ্মীর, উত্তর–পূর্ব ভারত এবং নকশাল–অধ্যুষিত এলকায় নকশাল ও বিচ্ছিন্নতাবাদী দমনে ভূমিকা পালন করেন। তিনি নাগা বিদ্রোহ দমনে সক্রিয় ভূমিকা নেন। তিনি ২০১৯ সালে নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল হন। তাঁর আমলেই নাগা শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়। রাজ্যপাল এন রবি মেঘালয় ও তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে অবসর নেওয়ার পর তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় কলামও লিখেছেন। রাজ্যপাল এন রবি শপথ গ্রহণের পর সন্ধ্যার দিকে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কালীঘাট মন্দিরে যান সস্ত্রীক। সেখানে পূজা দেন।
পশ্চিমবঙ্গে আগামী মাসেই বিধানসভার নির্বাচন। সেই নির্বাচনের আগে হঠাৎ রাজ্যপালের পরিবর্তন এবং নতুন রাজ্যপাল নিয়োগ রাজনৈতিক মহলে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। আগের রাজ্যপালের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের শাসক সরকারের সম্পর্ক শীতল হয়ে উঠছিল।
এন রবি এর আগে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল থাকার সময় সেখানে ক্ষমতাসীন ডিএমকে সরকারের সঙ্গে কয়েকবার সংঘাতে জড়িয়েছেন। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গে এন রবির সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে রাজ্যপালকে সরানোর জন্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছেও আর্জি জানিয়েছিলেন স্ট্যালিন। এবার আনন্দ বোসের উত্তরসূরি হিসেবে সেই এন রবিকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে কী উদ্দেশ্য আছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল রয়েছে ব্যাপক।