ভারতের মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিধ্বস্ত উড়োজাহাজ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, পুনে
ভারতের মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিধ্বস্ত উড়োজাহাজ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, পুনে

অজিত পাওয়ারকে বহনকারী উড়োজাহাজের বিমানবালা শেষ ফোনে বাবাকে কী বলেছিলেন

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বাইয়ের ওরলির বাসিন্দা পিংকি মালি তাঁর বাবাকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘বাবা, আমি অজিত পাওয়ারের সঙ্গে বারামতি যাচ্ছি। তাঁকে নামিয়ে দিয়ে আমি নান্দেদে যাব। কাল কথা হবে।’

উত্তরে বাবা শিবকুমার বলেছিলেন, কাজ শেষ হওয়ার পর পরের দিন তাঁরা কথা বলবেন। কিন্তু সেই ফোনকল আর আসেনি।

শিবকুমার বলেন, ‘আমি তাকে বলেছিলাম, কাল তোর কাজ শেষ হলে কথা হবে। কিন্তু সেই “কাল” আর কোনো দিন আসবে না।’

অজিত পাওয়ারকে বহনকারী উড়োজাহাজের ক্রু ছিলেন পিংকি মালি। তাঁর বাবা শিবকুমার আরও বলেন, ইদানীং বেশ কয়েকটি সফরে পিংকি রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের সঙ্গে ছিলেন।

কাঁদতে কাঁদতে শিবকুমার বলেন, ‘আমি আমার মেয়েকে হারিয়েছি। ঠিক কী ঘটেছিল, আমি জানি না। কারণ, এ সম্পর্কে আমার কোনো কারিগরি জ্ঞান নেই। আমি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছি। আমি শুধু আমার মেয়ের মরদেহ চাই, যাতে মর্যাদার সঙ্গে শেষবিদায় জানাতে পারি। এটাই আমার শেষ চাওয়া।’

আজ বুধবার সকালে মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার বারামতি বিমানবন্দরের কাছে দিল্লির ‘ভিএসআর ভেঞ্চারস’-এর মালিকানাধীন লিয়ারজেট ৪৫ (ভিটি-এসএসকে) বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

উড়োজাহাজে মোট পাঁচজন আরোহী ছিলেন। তাঁরা হলেন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার, তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা বিদীপ যাদব, বিমানবালা পিংকি মালি, প্রধান পাইলট সুমিত কাপুর ও সহ-পাইলট শাম্ভবী পাঠক।

ফ্লাইটের তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মুম্বাই থেকে রওনা হয় এবং ৮টা ৪৫ মিনিটে রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঠিক ৮টা ৫০ মিনিটে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়।

আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি জেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে পুনে জেলায় চারটি জনসভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার।

অবতরণের সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে জরুরি উদ্ধারকারী দল ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দুর্ঘটনার তদন্ত করতে বুধবারই দিল্লি থেকে ‘এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’র (এএআইবি) একটি দল পুনের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।