ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে অংশ নিতে বাসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র। ৭ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে অংশ নিতে বাসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র। ৭ অক্টোবর ২০২৬

সিইসির পদত্যাগের দাবি

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে গিয়ে আবার আটক রাহুল গান্ধী

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ বুধবার দিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হচ্ছিলেন বিরোধী দলগুলোর প্রায় ৩০০ সংসদ সদস্য। সেখান থেকে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে আবার আটক করা হয়েছে।

এদিন এর আগে যন্তর মন্তর থেকে সামান্য দূরে জনপথের সাগররত্ন রেস্তোরাঁয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের দেওয়া এক মধ্যাহ্নভোজ শেষে রাহুল গান্ধী এই বিক্ষোভের ঘোষণা দেন। সেখানে বামপন্থী ও তৃণমূলের মতো ইন্ডিয়া জোটের অন্য শরিকদের সঙ্গে খাবার খান কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা।

সাংবাদিকদের রাহুল বলেন, ‘আমি গতকালও বলেছিলাম, আমাদের ৩০০ সংসদ সদস্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই আজ আমাদের পরিকল্পনা হলো যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করা।’

সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে লোকসভার বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, ‘আমরা দেশবাসীকে জানাতে চাই, জ্ঞানেশ কুমার বৈধ সিইসি নন। এঁরা দেশদ্রোহী। তাঁকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।’ নির্বাচন কমিশন যা কিছুই করছে, তার পেছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত রয়েছে দাবি করে রাহুল বলেন, ‘এর মানে হলো মোদি নিজেই গণতন্ত্র ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন।’

গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে বিরোধী সংসদ সদস্যদের পদযাত্রা ও অবস্থান কর্মসূচির জেরে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সরকারি ভবনে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে মামলা করেছে দিল্লি পুলিশ। তবে এই মামলাকে একেবারেই পাত্তা দেননি তিনি। নিজের নামে প্রায় চার ডজন এফআইআর আছে দাবি করে রাহুল বলেন, ‘আমার লক্ষ্য এটাকে ১০০–তে নিয়ে যাওয়া। প্রতিটি এফআইআর আমার কাছে একেকটি পদকের মতো।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার উদ্দেশে বাসের দিকে এগোচ্ছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। নয়াদিল্লির জনপথের ‘সাগর রত্ন’ রেস্তোরাঁয় ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক শেষে তোলা ছবি। ৭ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবারের নাটকীয় অবস্থান ও মিত্রদের ক্ষোভ

ভোটার তালিকার সংশোধনীতে অনিয়ম নিয়ে গত মাসে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই চাপে রয়েছেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ‘নির্বাচন সদন’ অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছিল ইন্ডিয়া জোট।

দুপুরের আগে প্রায় ২০০ সংসদ সদস্য নিয়ে পদযাত্রা শুরু হলেও পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে তা নির্বাচন কমিশনের কাছে আকাশবাণী ভবনে এক নাটকীয় অবস্থান কর্মসূচিতে রূপ নেয়। ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করেন রাহুল। কাছাকাছি পৌঁছাতেই সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদবসহ অনেককে আটক করে পুলিশ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আকাশবাণী ভবনে বিক্ষোভ করার সময় আটক হন বিরোধীরা। পরে নয়াদিল্লির কিংসওয়ে ক্যাম্পের নিউ পুলিশ লাইনে রাখা হয় লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রসহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্য সংসদ সদস্যদের। ৭ অক্টোবর ২০২৬

কংগ্রেসের দাবি, নির্বাচন কমিশনের ঠিক উল্টো দিকের পেছনের গেট দিয়ে বের হওয়ার জন্য তাঁরা আকাশবাণী ভবনে ঢুকেছিলেন। কিন্তু পুলিশ সেই গেট তালাবদ্ধ করে দিলে তাঁরা অল ইন্ডিয়া রেডিওর কার্যালয়ের প্রাঙ্গণেই বসে পড়েন। পুলিশ সরিয়ে দেওয়ার আগে টানা ৯ ঘণ্টা তাঁরা একটি গাছের নিচে অবস্থান করেন। সেখানেই চা–নাশতা সারেন নেতারা। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে পুলিশ। দুই ঘণ্টা পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে মঙ্গলবারের এই নাটকীয় অবস্থান কর্মসূচি ভালোভাবে নেয়নি ইন্ডিয়া জোটের কিছু শরিক দল। সূত্র বলছে, মিত্রদের দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে গান্ধী পরিবার পুরো ‘ফোকাস নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে’। মিত্রদের অন্ধকারে রাখায় যে ‘অবিশ্বাসের’ সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল।