মামলা তুলে না নেওয়ায় মধ্যপ্রদেশে দলিত তরুণকে হত্যা, মাকে করা হলো নগ্ন

দলিত পরিবারের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে মধ্যপ্রদেশে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। ফাইল ফটো
 ছবি: রয়টার্স

ঘটনাটি ভারতের মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলায়। যৌন নির্যাতনের মামলাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার এক দলিত পরিবারের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছেন কয়েক শ মানুষ।

পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৯ সালে এক দলিত তরুণী তাঁর ওপর যৌন নিগ্রহের অভিযোগ জানান। এফআইআরভুক্ত চার আসামির বিরুদ্ধে মামলার বিচারকাজ চলছে। সম্প্রতি মামলা তুলে নিতে ওই তরুণীর ওপর আসামিপক্ষ চাপ দিচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি।

এরপরই কয়েক শ মানুষ ওই তরুণীর বাড়িতে হামলা চালান। তাঁরা ওই তরুণীর ভাইকে বেধড়ক মারতে থাকেন। তরুণীকেও মারেন। মেয়ে ও ছেলেকে রক্ষা করতে মা এগিয়ে গেলে তাঁকে নগ্ন করে দেওয়া হয়। হামলাকারীদের মারধরে শেষ পর্যন্ত ছেলের মৃত্যু হয়।

ওই তরুণীর মায়ের অভিযোগ, পুলিশ আসার পর প্রথমে তাঁকে তোয়ালে দেয়। তারপর তারা শাড়ি জোগাড় করে দেয়।

ওই ঘটনায় পুলিশ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা ও দলিতদের ওপর নিগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওই তরুণীর মা অভিযোগ করেছেন, বাড়ির সব জিনিস ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এমনকি পাকা ছাদও ভাঙা হয়েছে। জনতা তাঁর স্বামী ও অন্য সন্তানদেরও মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল।

গ্রামে বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছে। ছেলের দেহের সৎকার করতেও পরিবার প্রথমে অস্বীকার করেছিল। তারপর জেলাশাসক উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এই ঘটনার পরই কংগ্রেস ও বহুজন সমাজ পার্টি জানিয়েছে, বিজেপি সরকারের নীতিই এ জন্য দায়ী। কংগ্রেস সভাপতি ও দলিত নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, মধ্যপ্রদেশে দলিত ও আদিবাসীদের ওপর সমানে অত্যাচার চালানো হচ্ছে।

খাড়গের দাবি, ভারতের মধ্যে মধ্যপ্রদেশে দলিতদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অত্যাচারের ঘটনা ঘটে। এই রাজ্যই হলো দলিতদের ওপর অত্যাচারের গবেষণাগার।

মধ্যপ্রদেশের বিজেপি মন্ত্রী বলছেন, কংগ্রেস ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করছে। একটা বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে।

বিজেপির সচিব রজনীশ আগরওয়ালের দাবি, বিজেপি সরকার বলে এত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস হলে তো কিছুই করত না।