
ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দলের নির্বাচনী প্রচারের একটি বিলবোর্ডে ইরান ও হিজবুল্লাহর নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরের মেয়র জোহরান মামদানির ছবি দেখা যাচ্ছে।
তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে স্থাপিত ওই বিলবোর্ডে মামদানির পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ছবিও আছে। তাঁদের পাশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান নাইম কাসেমের ছবি রয়েছে।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ পার্টির প্রতীকযুক্ত ওই বিলবোর্ডে লেখা আছে, ‘তাঁরা চান নেতানিয়াহু হেরে যান...তাঁদের জিততে দেবেন না।’
নেতানিয়াহু গত রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ওই বিলবোর্ডের একটি ছবি পোস্ট করেন। তিনি একটি ভিডিও–ও পোস্ট করেন। ভিডিওতে তিনি মামদানিকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলেন।
গত জুলাইয়ে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট ভেঙে দেওয়ার পর নেতানিয়াহু তাঁর উগ্র ডানপন্থী জোটকে আবার জেতাতে জোর নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন। আগামী ২৭ অক্টোবর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলে এটাই প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
নিউইয়র্ক নগরের মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর শুরু থেকেই প্রকাশ্যে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের কড়া সমালোচনা করেছেন মামদানি। গত মাসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর বাগ্যুদ্ধ আরও তীব্র হয়। তিনি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, ‘তাঁর (নেতানিয়াহুর) হেগে থাকা উচিত।’
এমনকি এর আগে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আইসিসির পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে গ্রেপ্তার করবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন জোহরান মামদানি।
সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নেতানিয়াহু যোগ দিতে এলে তাঁর ওপর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে মার্কিন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন মামদানি।
জবাবে নেতানিয়াহু জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষ উসকে দেওয়া’ এবং তাঁর শহরে বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর অভিযোগ তুলেছেন।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, মামদানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি একসময় যে দ্বিদলীয় রাজনৈতিক সমর্থন ছিল, তা হুমকির মুখে পড়েছে। এ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোয় দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর তুলনায় মার্কিন ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে মামদানির জনপ্রিয়তা বেশি।
ইসরায়েলে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে জনমত জরিপগুলোতেও নেতানিয়াহুর দলের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের পিছিয়ে থাকার আভাস পাওয়া গেছে।
নেতানিয়াহু গত রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ওই বিলবোর্ডের একটি ছবি পোস্ট করেন। তিনি একটি ভিডিও–ও পোস্ট করেন। ভিডিওতে আইসিসির পরোয়ানাভুক্ত এই উগ্র ইহুদিবাদী আসামি উল্টো মামদানিকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে আখ্যা দেন।
মামদানি ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এই কথার লড়াই এমন এক সময়ে চলছে, যখন গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আলোচনায় অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।
গতকাল সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার নেতানিয়াহুর সঙ্গে তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন, বৈঠক থেকে কোনো অগ্রগতি আসেনি।
কারণ, ইসরায়েল বলেছে, হামাস নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে তারা সেনা প্রত্যাহার করবে না।
নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারে নিজের ছবি ও বক্তব্যের ব্যবহারের বিষয়ে মামদানি এখনো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।