ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

ভোট গণনা ৭৬%: আরব দলগুলোর শক্তি বাড়ছে, ৫৪ আসনেই আটকে নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে ভোট গণনার গতি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নাটকীয়তা বাড়ছে। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের ব্যালট গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট ৫৪টি আসনেই আটকে রয়েছে। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ‘ইয়াশার’ জোটের আসনসংখ্যা সামান্য কমে ৪৭-এ দাঁড়িয়েছে।

ভোট গণনার এ পর্যায়ে বড় লাফ দিয়েছে প্রধানত আরব দলগুলোর জোট। যৌথভাবে লড়া আরব দল ‘জয়েন্ট লিস্ট’ ও ‘রা’আম’ আসনসংখ্যা বাড়িয়ে ১৯-এ উন্নীত করেছে। আগে এ সংখ্যা ছিল ১৬।

বর্তমানে তিনটি দল নির্বাচনী বাধা অতিক্রম করার মতো ভোট পায়নি। দলগুলো হলো রিজার্ভিস্টস (২ দশমিক ৬ শতাংশ), পিপল অব ইসরায়েল (১ দশমিক ৭ শতাংশ) ও হারেদি পাবলিক (শূন্য দশমিক ২ শতাংশ)। ইসরায়েলে পার্লামেন্টে আসন পেতে কোনো দলকে অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়।

নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, এগুলো এখনো আংশিক ফলাফল এবং ভোট গণনা চলতে থাকায় এ চিত্রের আরও পরিবর্তন হবে। বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর সদস্যসহ অন্য ভোটারদের ‘ডাবল-এনভেলাপ’ বা দ্বৈত খাম পদ্ধতির বিশেষ ভোটগুলো পরে গণনা করা হবে, যা চূড়ান্ত ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

নির্বাচন কমিটির পাওয়া শেষ তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন পেয়ে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। এরপরই ২০টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের দল ‘ইয়াশার!’। এ ছাড়া আরব দলগুলোর জোটভুক্ত ‘জয়েন্ট লিস্ট’ ১৩টি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দল বেয়াহাদ ১১টি আসন পেতে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিটির পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ ২৭টি আসন পেয়ে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। এরপরেই ২০টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের দল ‘ইয়াশার’। এ ছাড়া আরব দলগুলোর জোটভুক্ত ‘জয়েন্ট লিস্ট’ ১৩টি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দল বেয়াহাদ ১১টি আসন পেতে যাচ্ছে।

সর্বশেষ এ হালনাগাদ তথ্যে পার্লামেন্টের আসন বিন্যাসে নতুন পরিবর্তন নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইজেনকটের দল ‘ইয়াশার!’ তাদের একটি আসন হারিয়েছে, যা যুক্ত হয়েছে আরব জোট জয়েন্ট লিস্টের ঝুলিতে। এর ফলে আইজেনকটের জোটের আসনসংখ্যা ৪৮ থেকে কমে ৪৭-এ দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসন ১৮ থেকে বেড়ে ১৯-এ উন্নীত হয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৫৪-তেই অপরিবর্তিত রয়েছে।

ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দল–জোটের আসনসংখ্যা

নেতানিয়াহুকে হঠাতে একাট্টা আরব দলগুলো

ভোট গণনার চলতি ধারায় আরব দলগুলোর শক্তিবৃদ্ধি এবারের ইসরায়েলি নির্বাচনের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরব দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্টের চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন আজ বলেছেন, পার্লামেন্টে তাঁদের এই বাড়তি শক্তিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর কাজে ব্যবহার করতে তাঁরা পুরোপুরি প্রস্তুত।

ইউসেফ জাবারিন বলেন, ‘নেতানিয়াহু ও ইতামার বেন-গভিরের সরকার প্রত্যেক আরব নাগরিকের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। আমরা যে মূল্যবোধে বিশ্বাস করি, তা এগিয়ে নিতে আমাদের রাজনৈতিক শক্তিকে কীভাবে কাজে লাগাতে হয়, তা আমরা ভালো করেই জানি।’

নেতানিয়াহু, বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার পথ তৈরি করতে আমরা প্রস্তুত।
ইউসেফ জাবারিন, জয়েন্ট লিস্টের চেয়ারম্যান

এই নেতা আরও বলেন, ‘নেতানিয়াহু, বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার পথ তৈরি করতে আমরা প্রস্তুত।’

এর আগে সকালে ইসলামপন্থী দল রা’আমের আসনসংখ্যা চার থেকে বেড়ে ছয়ে দাঁড়ানোর পেছনে বড় ভূমিকা রাখে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের বেদুইনপ্রধান শহর রাহাতের ভোট। রাহাতে দলটির শক্তিশালী জনসমর্থন রয়েছে। সেখানকার ৩১টি কেন্দ্রের গণনা শেষে রা’আম একাই পেয়েছে ৮৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট; যেখানে জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে মাত্র ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

আরেক বেদুইন শহর কুসেইফের পাঁচটি ভোটকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রা’আম পেয়েছে ৮৬ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট ও জয়েন্ট লিস্ট ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। এ ছাড়া কাফর কাসিম শহরেও ৭৪ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে রা’আম; যেখানে জয়েন্ট লিস্টের পক্ষে পড়েছে ২২ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট।