জুনের শুরুর দিকে ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হয়
জুনের শুরুর দিকে ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হয়

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফায় আলোচনার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা হবে। গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিবৃতি দেওয়ার অল্প সময় আগে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ লেবাননে আবারও যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ঘোষণা দেয়। লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসানে হওয়া সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা দেশটির পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সহিংসতা অবসানের একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ।

দুই নেতা ২৩ ও ২৫ জুন অনুষ্ঠেয় আলোচনা নিয়েও কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ‘বৈঠকগুলোতে দুটি সার্বভৌম সরকার স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টা করবে।’

গত এপ্রিল মাসে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে প্রথম দফার সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯৩ সালের পর ওই প্রথম দুই দেশের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি বৈঠকে বসেন।

ওই বৈঠক এবং জুনে অনুষ্ঠিত পরবর্তী দফার আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবানন দুই দেশই সংঘর্ষে বিরতির ঘোষণা দিয়েছে। তবে এসব আলোচনায় হিজবুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এতে অর্থবহ কোনো অগ্রগতি অর্জন করার কাজটি কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত আছে। সর্বশেষ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন।

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে লেবাননের সরকার যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি রোডম্যাপের অংশ হিসেবে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

লেবাননের সরকারও দেশটির দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে জুন মাসে হওয়া একটি চুক্তিতে হিজবুল্লাহকে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর উত্তরে সরে যাওয়ার কথা বলা হলেও সেখানে ইসরায়েলের সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করা হয়েছে, তাতে লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

তবে চলমান সংঘর্ষ সে সমঝোতা বাস্তবায়নের পথে বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিরলভাবে ইসরায়েলের সমালোচনা করেন।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল স্থায়ী যুদ্ধের পরিবেশ বজায় রাখতে চায়।