হামলা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল, ক্ষেপণাস্ত্র–ড্রোনে জবাব দিচ্ছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের তীব্রতা আরও বেড়েছে। গতকাল বুধবার যুদ্ধের পঞ্চম দিনে ইরান ও লেবাননে হামলা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। পাল্টায় আশপাশের যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক স্থাপনা কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। আর দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেটে বিস্ফোরিত হয়েছে ইরানের ড্রোন।

ইরানের পাল্টা হামলার কারণে যুদ্ধ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের হামলা, ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়াসহ অঞ্চলজুড়ে দেখা দেওয়া অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের এ যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ নিয়ে নিজ দেশের মধ্যে বিরোধিতার মুখে পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্য রিচার্ড ব্লুমেনথাল গত মঙ্গলবার কংগ্রেসে ইরান যুদ্ধ নিয়ে শুনানির পর সাংবাদিকদের বলেন, ইরানে মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য অর্জনে স্থল অভিযানে যেতে হতে পারে। তা হলে যুক্তরাষ্ট্র একটি বৃহত্তর সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে।

গত শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ যুদ্ধ এখন নৌ ও স্থলপথেও চলছে। গতকাল লেবাননের আরও ভেতরে ঢুকেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এদিন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে আইআরজিসি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কার উপকূলে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন থেকে হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত ৮৭ জন নিহত হয়েছেন।

গতকাল ইরানে হামলা জোরদার করার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের দেওয়া তথ্যেও তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত তারা ইরানে ১ হাজার ৩৯টি হামলা চালানোর কথা বলেছিল। তবে গতকাল সেন্টকম জানায়, ইরানে প্রায় ২ হাজার স্থাপনায় চালানো হয়েছে, অর্থাৎ মাত্র এক দিনে প্রায় ১ হাজার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, দ্রুতই তাঁরা ইরানের আকাশসীমার পুরোটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবেন।

ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা, দুটি বিমানবাহী রণতরি ও বোমারু বিমান অংশ নিচ্ছে। কিন্তু ইরানের পাল্টা হামলায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসনকে নতুন করে যুদ্ধের কৌশল নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। এ যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর অস্ত্রের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য ওয়াশিংটন আগামীকাল শুক্রবার ‘লকহিড মার্টিন’সহ বিভিন্ন অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বসার চিন্তা করছে বলে রয়টার্সকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা সামনে আসছে। তবে সেটিও খুব সহজ হবে না বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের গবেষক ক্রিস্টোফার প্রেবল গতকাল আল-জাজিরাকে বলেন, এটি ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ নয়। আর ইরাকের চেয়ে ইরান তিন থেকে চার গুণ বড়। দেশজুড়ে হামলা চালানোর মতো সেনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। ফলে স্থল অভিযানে গেলে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে ট্রাম্প প্রশাসন।

‘পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে’

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের দেড় শতাধিক শহরে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে রাজধানী তেহরানে। আগের দিন মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল দিনভর শহরটিতে দফায় দফায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। তেহরানের একজন বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে ৩০টির বেশি বিস্ফোরণ শুনেছি। পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে।’

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদ্রাই জানান, গতকাল তাঁরা তেহরানে কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছেন। এর মধ্যে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট আধা সামরিক বাজিস বাহিনীর প্রধান কার্যালয় রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের সামরিক বাহিনীর একটি কার্যালয়েও হামলা হয়েছে। তেহরানে সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় এমন হামলা চলতে থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় চারপাশে শুধুই ধ্বংস্তূপ। এরই মাঝে ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে এক ব্যক্তি। গতকাল মধ্য তেহরানে

ইরান থেকে আল-জাজিরার সংবাদদাতা জানান, একের পর এক হামলায় মঙ্গলবার রাতে তেহরানের আকাশ ঝলসে ওঠে। শহরের উপকণ্ঠে ইনকিলাব স্কয়ারে একটি থানায় হামলার কথা শুনেছেন তিনি। তেহরানে ইরানের একটি ‘ইয়াক-১৩০’ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইসফাহান, কোম ও উরমিয়া প্রদেশে গতকাল হামলা হয়েছে। এর মধ্যে ইসফাহানে পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে ১ হাজার ৪৫ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, শনিবার থেকে ইরানে শুধু বেসামরিক মানুষই নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৯৭ জন। তাঁদের মধ্যে ১৮১ জনের বয়স ১০ বছরের কম। এ সময়ে আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৪০২ জন।

লেবাননের আরও ভেতরে ইসরায়েল বাহিনী

লেবাননে বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের বাহিনী সীমান্ত থেকে ছয় কিলোমিটার ভেতরে খিয়াম শহরে রয়েছে। সেখানে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা লড়াই করছেন বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

গতকাল লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এদিন বৈরুতের কাছে হেজমিয়া এলাকায় একটি হোটেলে হামলা হয়। এ ছাড়া পূর্ব লেবাননে বালবেক শহরে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশটিতে ইসরায়েলের হামলায় ৭২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৪৩৭ জন।

ইসরায়েলের বিমান হামলায় ধ্বংস হয়েছে ভবন। গতকাল লেবাননের রাজধানী বৈরুতে। এএফপিইসরায়েলের বিমান হামলায় ধ্বংস হয়েছে ভবন। গতকাল লেবাননের রাজধানী বৈরুতে

হিজবুল্লাহও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল তারা জানায়, উত্তর ইসরায়েলের সাফেদ শহরে একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এদিন রাতেও তেল আবিবের কাছে তেল হাশমোর ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ।

লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় শুধু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানিই হচ্ছে না, বহু মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হচ্ছেন। লেবাননের সমাজকল্যাণমন্ত্রী হানিন সায়েদ বলেন, প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয়শিবিরে এসেছেন। আরও ১০ থেকে ২০ হাজার মানুষ হামলা থেকে বাঁচতে এলাকা ছেড়ে বিভিন্ন রাস্তা ও খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন।

আবার মার্কিন স্থাপনায় হামলা

মঙ্গলবার সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের ১৪টি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ওয়াশিংটন। এ অঞ্চলে চারটি মার্কিন দূতাবাস বন্ধসহ অনেক দূতাবাসের কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার রাতে দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এতে কনস্যুলেট ভবনের কাছে আগুন ধরে যায়। পরে এ কনস্যুলেটসহ আরব আমিরাতে মার্কিন সব দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কনস্যুলেট ভবনের পাশে গাড়ি রাখার স্থান থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। পরে দুবাইয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে জানানো হয়, আগুনে কেউ হতাহত হননি। এ ছাড়া কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে আল-উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। গতকাল রাতে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস থেকেও সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে।

কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে থাকা অস্থায়ী মার্কিন অপারেশন সেন্টারে ইরানের হামলার পর কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। এই হামলায় ছয় মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন

মধ্যপ্রাচ্যের ১৯টি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে ৮টি ঘাঁটি স্থায়ী। এগুলোর মধ্যে আল-উদেইদ সবচেয়ে বড়। সেখানে গতকালের হামলা নিয়ে এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১১টি স্থাপনায় ইরান আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

মার্কিন স্থাপনাগুলো ছাড়াও গতকাল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা চালিয়েছে ইরান। এর মধ্যে কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক শিশু আহত হয়েছে। ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আকাশে একটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার রাস তানুরায় আবার হামলা হয়েছে। তুরস্কও তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশের আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে।

‘ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেছিল ইরান’

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর দেশটির কংগ্রেসকে জানিয়েছিল, আগ বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা শুরুর কোনো পরিকল্পনা ছিল না ইরানের। আর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার কংগ্রেসে এক শুনানিতে বলেন, ইসরায়েল ইরানে হামলা করবে বলে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছিলেন। ইসরায়েল হামলা করলে জবাবে ইরান মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালাবে—এ আশঙ্কা থেকে আগেই ইরানে হামলা চালানো হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এ বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করছেন বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা। ট্রাম্প অপ্রয়োজনে ইসরায়েলের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এ যুদ্ধে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করছেন তাঁরা। প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন মঙ্গলবার এক্সে এক পোস্টে বলেন, কেন এই যুদ্ধ সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো একটিও স্পষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। এটা মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে শুরু করা একটি অবৈধ যুদ্ধ।

ডেমোক্র্যাট নেতাদের এমন প্রতিক্রিয়া ঘিরে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোতে দেশটির ইরানে হামলার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গতকাল পেন্টাগনে সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেন, ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেছিল ইরান। মঙ্গলবার ওই হত্যাচেষ্টায় জড়িত দলের নেতাকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হয়েছে।

ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা

সংবাদ সম্মেলনে শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানের যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানোর কথা জানান হেগসেথ। তিনি বলেন, সাবমেরিন থেকে টর্পেডো ছুড়ে যুদ্ধজাহাজটি ডুবিয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে যুদ্ধে সাবমেরিনসহ ইরানের সামরিক বাহিনীর অন্তত ২০টি নৌযানে হামলা বা ধ্বংসের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড।

যুদ্ধ বেশি দিন চললে সুবিধা ইরানের

গতকালও ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ। যেমন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে যায় না। আর রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, ইসরায়েলকে দ্রুত হামলা বন্ধ করতে হবে। ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

তবে এসব আহ্বানে কান দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন ঘিরে তিন দিনের শোক পালন শুরু হওয়ার কথা ছিল গতকাল। শিগগিরই দেশটিতে নতুন সর্বোচ্চ নেতা বেছে নেওয়া হবে বলে বার্তা দিয়েছে তেহরান। তবে যেই এই পদে আসুক না কেন, তাঁকে ‘শিকারে’ পরিণত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। আর পেন্টাগনের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলা সবে শুরু হয়েছে।

এ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, চলমান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হচ্ছে না। তাই যদি হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত ইরানই সুবিধা পাবে বলে মনে করেন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী আলিজাদেহ। তিনি গতকাল আল-জাজিরাকে বলেন, ইরানের অস্ত্রগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তুলনায় অনেক কম দামি, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো। তুলনামূলক দামি অস্ত্র দিয়ে ইরানে হামলা চালাতে এবং নিজেদের রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিপুল খরচ হচ্ছে। এত খরচ চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্রের কত সময় ধরে আগ্রহ থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে তেহরানেরই সুবিধা হবে।