
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। রণক্ষেত্রের লড়াই ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে পর্দার আড়ালের কূটনীতি। দুই দেশকে এক টেবিলে বসাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এখন জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে পাকিস্তানের নাম।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বৈঠকের স্থান হিসেবে পাকিস্তান তার রাজধানী ইসলামাবাদের নাম প্রস্তাব করেছে বলে জানা গেছে।
মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বৈঠকের স্থান হিসেবে পাকিস্তান তার রাজধানী ইসলামাবাদের নাম প্রস্তাব করেছে বলে জানা গেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রখ্যাত গবেষক ভ্যালি নাসর মনে করেন, পাকিস্তানের এ উদ্যোগের পেছনে সৌদি আরবের প্রচ্ছন্ন সমর্থন থাকার সম্ভাবনা প্রবল। তাঁর মতে, রিয়াদকে পাশ কাটিয়ে ইসলামাবাদের এমন বড় কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তবে ওয়াশিংটনের অনেকের কাছেই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নাম আসাটা অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়।
দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, পাকিস্তান যে মধ্যস্থতাকারী হতে পারে, তা মোটেও অবিশ্বাস্য নয়। গত এক বছরে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। আবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গেও ইসলামাবাদের সম্পর্ক এখন বেশ ঘনিষ্ঠ। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের কূটনৈতিক স্বার্থও দেখভাল করে পাকিস্তান।
পাকিস্তান যে মধ্যস্থতাকারী হতে পারে, তা মোটেও অবিশ্বাস্য নয়। গত এক বছরে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। আবার ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গেও ইসলামাবাদের সম্পর্ক এখন বেশ ঘনিষ্ঠ। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের কূটনৈতিক স্বার্থও দেখভাল করে পাকিস্তান।মাইকেল কুগেলম্যান, দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক
সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসরের মতো দেশগুলো তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে বলে জানা গেছে।
ওয়াশিংটনে কর্মরত মুসলিম কূটনীতিকেরা বলছেন, ইরান–সংলগ্ন সীমান্ত থাকায় পাকিস্তান ও তুরস্কের জন্য এ যুদ্ধ সরাসরি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে উদ্বাস্তু সমস্যা ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা এড়াতে এ দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধে বেশি আগ্রহী।
এ ক্ষেত্রে মিসরের অবস্থানও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বড় আরব রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পথ খোলা থাকায় কায়রো এমন কিছু বার্তা আদান-প্রদান করতে পারছে, যা অন্যদের পক্ষে সম্ভব নয়।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, যুদ্ধের এ পর্যায়ে সরাসরি আলোচনা তেহরান বা ওয়াশিংটন—কারও জন্যই রাজনৈতিকভাবে সহজ নয়। এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয় কোনো পক্ষের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তান সেই শূন্যস্থান পূরণের চেষ্টা করছে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, যুদ্ধের এ পর্যায়ে সরাসরি আলোচনা তেহরান বা ওয়াশিংটন—কারও জন্যই রাজনৈতিকভাবে সহজ নয়। এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয় কোনো পক্ষের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তান সেই শূন্যস্থান পূরণের চেষ্টা করছে।
এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে সংঘাতে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার জন্য জুন ও অক্টোবর মাসে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল পাকিস্তান। এ পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের অনেকের কাছেই দেশটিকে প্রিয় করে তুলেছে।
গত বছরের জুন ও সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন। ট্রাম্প নিজেই মন্তব্য করেছিলেন যে আসিম মুনির ইরানকে অনেকের চেয়ে ভালো চেনেন। এই ব্যক্তিগত সখ্য ও আস্থাই এখন ইসলামাবাদকে বিশ্বরাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।