
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনে ২৪০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদ। তবে এর মধ্যেও এ উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধ নেই। গতকালও সেখানে হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সংস্থাটির সাধারণ পরিষদের ৮১তম বার্ষিক অধিবেশন চলছে। অধিবেশনের ফাঁকে পৃথক বৈঠকে বসেন গাজার শান্তি পর্ষদের সদস্যরা। গতকাল বুধবারের এসব বৈঠকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও পুনর্গঠনের তদারকির দায়িত্বে থাকা এ পর্ষদ ৬৬টি প্রকল্পের একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে মধ্যম মেয়াদে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে। পরবর্তী ১০ বছরে আরও ৭ হাজার ১৪০ কোটি ডলার লাগতে পারে।
শান্তি পর্ষদের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেন, হামাসকে (ফিলিস্তিনিদের মুক্তিকামী সশস্ত্র সংগঠন) নিরস্ত্র করার ওপর এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নির্ভর করছে।
হামাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো গত জুলাইয়ে গাজায় নিজেদের নিরস্ত্রীকরণের একটি পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে ‘শান্তি ও নিরাপত্তার পথে যুগান্তকারী পদক্ষেপ’ বলে চিহ্নিত করেছিলেন।
এ বিষয়ে নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেন, ‘আমরা কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমায় আটকে নেই। নিশ্চিত হতে চাই, এটি কার্যকর হচ্ছে।’
নিউইয়র্কে শান্তি পর্ষদের সংবাদ সম্মেলন থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক ক্রিস্টেন সালোমি বলেন, গাজা উপত্যকা পরিস্থিতির বাস্তবে খুব একটা অগ্রগতি হয়নি। বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
গত বছর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রস্তাবের মাধ্যমে এ শান্তি পর্ষদ গঠিত হয়েছিল। মূল লক্ষ্য ছিল, গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। শান্তি পর্ষদও ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত হয়েছে বলে জানা যায়।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েল এখনো গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেনি। ফলে উপত্যকায় পুনর্গঠনের কাজ এখনো শুরু করা যায়নি।
গাজার দক্ষিণের খান ইউনিস শহরে গতকালও একটি গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় চিকিৎসাকর্মীরা জানান, তাঁদের নাম ওসামা আবু খাতের ও মোহাম্মদ আবু এলওয়ান।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, এ ড্রোন হামলায় হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ অর্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
গাজার মধ্যাঞ্চলীয় দেইর এল-বালাহ এলাকায় অন্য একটি গাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত দুজন ফিলিস্তিনি। অন্যদিকে গাজা নগরীতে পৃথক হামলায় আরও অন্তত একজন নিহত হন।
গাজা নগরী থেকে আল-জাজিরার সংবাদদাতা ইব্রাহিম আল খলিলি বলেন, ইসরায়েলের এসব হামলার পর সেখানকার পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।