
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠন করা ‘শান্তি পর্ষদে’ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। বুধবার নেতানিয়াহুর দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
নেতানিয়াহুর দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং বিশ্বনেতাদের নিয়ে গঠিত ‘শান্তি পর্ষদের’ সদস্য হিসেবে যোগ দেবেন।
যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার পুনর্গঠন তদারকি করার জন্যই মূলত এই পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। তবে এএফপির হাতে থাকা পর্ষদের চার্টার অনুযায়ী এর কাজ শুধু ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়। তা ছাড়া পর্ষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ার জন্য প্রত্যেককে ১০০ কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থ দিতে হতে পারে।
চার্টারের ভূমিকা অংশে লেখা আছে, পর্ষদ ‘স্থিতিশীলতা বাড়ানো, নির্ভরযোগ্য ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের প্রভাবে বা ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলে টেকসই শান্তি নিশ্চিত করা’র লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে।
ট্রাম্প নিজেই পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবেও আলাদা দায়িত্ব পালন করবেন।
কয়েকটি দেশ ‘শান্তি পর্ষদের’ আমন্ত্রণ পেয়েছে বলে জানিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রের পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দেশও রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের মিত্র ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা এতে যোগ দেবে না।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প পর্ষদের ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি পর্ষদের অধীনে একটি ‘গাজা নির্বাহী পর্ষদ’ গঠনের পরিকল্পনা জানিয়েছিলেন।
নির্বাহী পর্ষদে প্রাথমিকভাবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং কাতারের কূটনীতিক আলী আল-থাওয়াদি থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু এতে তাঁদের যুক্ত করা নিয়ে নেতানিয়াহু তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। তুরস্ক ও ইসরায়েলের সম্পর্ক ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আরও খারাপ হয়েছে।
এ ছাড়া ট্রাম্পের গত অক্টোবর ঘোষণা করা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি অন্তর্বর্তীকালীন গাজার দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা দেখভাল করবে।
কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন গাজার বাসিন্দা ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী আলী শাথ। চলতি সপ্তাহে মিসরের রাজধানী কায়রোতে কমিটি প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে।