
ওয়াশিংটনে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের এক বৈঠকের পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দিয়ে সাফ জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতায় না এলে তেহরানকে ‘কঠিন সামরিক পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
পরে প্রেসিডেন্টের সরকারি উড়োজাহাজ এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ দিন করার ইঙ্গিত দেন।
ট্রাম্পের এই আলটিমেটামকে নিছক মৌখিক হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, ইরানের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি ব্যাপক হারে বাড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি প্রস্তুত। তেহরান নতি স্বীকার না করলে এ সপ্তাহের শেষ নাগাদই হামলা হতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের মুখোমুখি করতে পারে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র কি আসলেই ইরানে বড়সড় হামলা চালাতে যাচ্ছে? নাকি এই আলটিমেটাম কেবলই তেহরানকে চাপের মুখে রাখার একটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল?
অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কঠোর অবস্থানের ভিত্তি বুঝতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে গত বছরের জুনে। সে সময় ১২ দিনের সংক্ষিপ্ত কিন্তু বিধ্বংসী ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে সরাসরি অংশ নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাহিনী ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ পরিচালনার মাধ্যমে বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান থেকে ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের জিবিইউ-৫৭ বাংকারবিধ্বংসী বোমা নিক্ষেপ করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্ভাব্য হামলার পেছনে প্রধানত তিনটি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য কাজ করছে। প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে স্থায়ীভাবে শিকড়সহ উপড়ে ফেলা। ওয়াশিংটন মনে করে, কেবল আকাশপথে হামলাই যথেষ্ট নয়, বরং ইরানের গবেষণা ও উৎপাদন সক্ষমতাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যেখান থেকে তারা আর কখনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করতে পারবে না।
এ হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের ফর্দো, ইসফাহান ও নাতাঞ্জের মতো অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো। সেই হামলায় নাতাঞ্জ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয় এবং ফর্দো ও ইসফাহান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অবশ্য পরবর্তী সময়ে সামরিক বিশ্লেষকেরা দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি, বরং তা কয়েক বছর পিছিয়ে গেছে মাত্র। ট্রাম্প এবার সেই অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন। গত অক্টোবরেই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি আবার সচল করার চেষ্টা করে, তবে মার্কিন বোমারু বিমান আবারও গর্জে উঠবে।
ইরানের আশপাশের এলাকায় সামরিক উপস্থিতি
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, মার্কিন বিমানবাহিনীর কয়েক ডজন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি ও সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থান নিয়েছে। এই বহরে রয়েছে এফ-৩৫, এফ-১৫, এফ-১৬ এবং রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এফ-২২ র্যাপ্টরের মতো যুদ্ধবিমান।
মধ্যপ্রাচ্যে শুধু আকাশপথেই নয়, সমুদ্রপথেও নজিরবিহীন শক্তি বাড়িয়েছে পেন্টাগন। মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরে বর্তমানে ১৩টি মার্কিন জাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ইরান থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে আরব সাগরে অবস্থান করছে।
এ ছাড়া মার্কিন বিমানবাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধবিমান, নজরদারি বিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে।
অন্যদিকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থান নিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং ডেস্ট্রয়ার নামের ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী একঝাঁক যুদ্ধজাহাজ।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী এই রণতরিটিকে প্রাথমিকভাবে ইসরায়েল উপকূলে মোতায়েন করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রয়োজনে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় সহযোগিতা করা এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন বিমান হামলার সক্ষমতা বাড়ানো।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১৯টি ঘাঁটিতে বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন বলে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সাজানো এই বহর দিয়ে ইরানের ওপর কয়েক সপ্তাহব্যাপী টানা বিমান হামলা চালানো সম্ভব।
কাতার ও বাহরাইন থেকে সেনা প্রত্যাহার
যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যাপক প্রস্তুতির মধ্যেই দেশটি কাতার ও বাহরাইনে নিজেদের ঘাঁটি থেকে শত শত সেনা সরিয়ে নিচ্ছে বলে পেন্টাগনের একটি গোপন সূত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছে। এরই মধ্যে কাতারের আল–উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে ইতিমধ্যে কয়েক শ মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আল–উদেইদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি। সেখানে নিয়মিত প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন থাকেন। বাহরাইন থেকেও সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি আল-জাজিরার এক খবরে বলা হয়েছিল, সিরিয়ায় অবস্থানরত প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
সেনা প্রত্যাহারের এসব পদক্ষেপকে ইরানের সম্ভাব্য হামলার মুখে ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে কোনো সামরিক অভিযান চালায়, তবে তেহরান পাল্টা আঘাত হিসেবে এ অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
কেন হামলার পথে হাঁটতে পারে ওয়াশিংটন
যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্ভাব্য হামলার পেছনে প্রধানত তিনটি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য কাজ করছে। প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে স্থায়ীভাবে শিকড়সহ উপড়ে ফেলা। ওয়াশিংটন মনে করে, কেবল আকাশপথে হামলাই যথেষ্ট নয়, বরং ইরানের গবেষণা ও উৎপাদন সক্ষমতাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যেখান থেকে তারা আর কখনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না।
পেন্টাগনের সাবেক এক কৌশলগত উপদেষ্টা নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, অপারেশন মিডনাইট হ্যামার প্রমাণ করেছে, শুধু সাধারণ বিমান হামলা দিয়ে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে বিরত রাখা সম্ভব নয়। ফোর্দোর মতো পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পাহাড়ের অনেক গভীরে অবস্থিত। তাই এবার যুক্তরাষ্ট্র হয়তো আরও উন্নত বাংকারবিধ্বংসী জিবিইউ-৫৭ ব্যবহারের পরিকল্পনা করতে পারে, যা স্থাপনাগুলোকে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত নয়, বরং মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেবে।
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির বিকাশ রোধ করতে উঠেপড়ে লেগেছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক ও আল-জাজিরার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মারওয়ান বিশারা মনে করেন, ওয়াশিংটনের মূল মাথাব্যথা এখন কেবল পারমাণবিক বোমা নয়, বরং ইরানের তৈরি কার্যকর ড্রোন ও নিখুঁত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।
লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মূল শক্তির উৎস হলো ইরানের সরবরাহ করা অস্ত্র।
যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, এসব প্রক্সি গোষ্ঠীকে দুর্বল করতে হলে তাদের মূল শক্তি তথা তেহরানকে পঙ্গু করে দেওয়া জরুরি।
মারওয়ান বিশারা বলেন, হিজবুল্লাহ বা হুতিদের হাতে এসব অস্ত্র থাকা মানে ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটির ওপর সার্বক্ষণিক হুমকি। তাঁর মতে, তেহরানকে পঙ্গু করা ছাড়া লোহিত সাগর বা লেবাননে স্থিতিশীলতা ফেরানো অসম্ভব বলে মনে করে ট্রাম্প প্রশাসন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক কৌশলও সম্ভাব্য হামলার পেছনে বড় নিয়ামক হতে পারে। বর্তমানে ট্রাম্প অভ্যন্তরীণভাবে কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বৈশ্বিক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করেছেন।
অন্যদিকে অভিবাসন ও ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে দেশে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ট্রাম্পকে চাপের মুখে ফেলেছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি শত্রুর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়াকে অনেক বিশ্লেষক দৃষ্টি সরানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতে একটি সীমিত কিন্তু প্রভাব বিস্তারকারী যুদ্ধের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদের হাওয়া বইয়ে দেওয়া ট্রাম্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে।
বিশ্বরাজনীতির ভিন্ন সমীকরণ
পেন্টাগন যদিও যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা সরাসরি স্বীকার করেনি, তবে পারস্য উপসাগরে মার্কিন রণতরি ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি সেই সংকেতই দিচ্ছে। ট্রাম্পের এবারের অবস্থানকে গতানুগতিক হুমকির চেয়েও বেশি কিছু বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান যদি ১৫ দিনের মধ্যে ইতিবাচক কোনো সংকেত না দেয়, তবে সীমিত আকারে হলেও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে ওয়াশিংটন।
তবে বিশ্বরাজনীতির সমীকরণ বলছে ভিন্ন কথা। একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, তেলের বিশ্ববাজারেও ভয়াবহ বিপর্যয় নামিয়ে আনতে পারে।
তবে বিশ্বরাজনীতির সমীকরণ বলছে ভিন্ন কথা। একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব তেলের বাজারেও ভয়াবহ বিপর্যয় নামিয়ে আনতে পারে। এ ছাড়া ট্রাম্পের সামনে রয়েছে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা। প্রথমত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানের মতো আঞ্চলিক মিত্ররা এবার মার্কিন হামলার জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে, যা মার্কিন বিমানবাহিনীর পরিকল্পনায় বড় সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে।
এ ছাড়া ট্রাম্পের সামনে রয়েছে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা। প্রথমত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানের মতো আঞ্চলিক মিত্ররা এবার মার্কিন হামলার জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে, যা মার্কিন বিমানবাহিনীর পরিকল্পনায় বড় সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে।
দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমতও যুদ্ধের বিপক্ষে; পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে ৪২ থেকে ৭০ শতাংশ মার্কিন ভোটার ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের বিরোধী।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রচারে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অধীনে অন্য দেশের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দেশটির টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়ালে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে।
এ ছাড়া ইরান যদি পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে, যা মার্কিন অর্থনীতির জন্য হবে চরম আত্মঘাতী।
এ ছাড়া সীমিত হামলার ফলে ইরান যদি ক্ষুব্ধ হয়ে দ্রুত পারমাণবিক বোমা তৈরির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা হবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চরম হিতে বিপরীত। পাশাপাশি যুদ্ধ শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে বিশাল শরণার্থী সংকট ও ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হবে, তা সামলানোর কোনো কার্যকর পরিকল্পনাও ওয়াশিংটনের নেই।
এমন পরিস্থিতিতে সামরিক আস্ফালন থাকলেও ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক এই বহুমুখী চাপের মুখে দাঁড়িয়ে ইরানে বড় কোনো অভিযান চালানো ট্রাম্পের জন্য একপ্রকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আত্মহত্যার শামিল হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সরাসরি হামলার ঝুঁকি নেবেন, নাকি আলোচনার টেবিলে সমঝোতায় পৌঁছাবেন—সেটাই এখন দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, আল–জাজিরা, সিএনএন, রয়টার্স, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল