ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসাবশেষ দেখছেন
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসাবশেষ দেখছেন

ইরানের ট্রেন ও রেললাইনে হামলার হুমকি ইসরায়েলের, এড়িয়ে চলতে সতর্কবার্তা

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানের সাধারণ মানুষকে ট্রেন ব্যবহার এবং রেললাইনের কাছাকাছি না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এটি ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলার পূর্বসংকেত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ফারসি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, ‘আপনাদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই মুহূর্ত থেকে রাত ৯টা (স্থানীয় সময়) পর্যন্ত সারা দেশে ট্রেন ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে। ট্রেনে থাকা বা রেললাইনের আশপাশে অবস্থান করা আপনাদের জীবনের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।’

এই সতর্কবার্তা এমন সময় এল, যখন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, বাংলাদেশ সময় আগামীকাল বুধবার সকাল সাতটার মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলা চালানো হবে।

পাল্টা হুঁশিয়ারিতে ইরানও জানিয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা হলে ‘ভয়াবহ’ প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

এরই মধ্যে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। আধা সরকারি মেহের বার্তা সংস্থার বরাতে জানা গেছে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় পাশের একটি সিনাগগও ধ্বংস হয়ে গেছে।

এর আগে সোমবার পারস্য উপসাগরের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাতেও হামলা চালানো হয়।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটিতে অন্তত ২ হাজার ৭৬ জন নিহত হয়েছেন।

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাবে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। তবে খসড়া প্রস্তাব থেকে শক্তি প্রয়োগ করে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। রাশিয়া ও চীনের ভেটোর আশঙ্কায় গত শুক্রবারের নির্ধারিত ভোট পিছিয়ে আজ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ট্রাম্প বারবার সময়সীমা বাড়ালেও এবারের পরিস্থিতি বেশ জটিল। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে, যা বহু দেশকে সংকটে ফেলে দিয়েছে।