
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ প্রায় এক মাস হতে চলেছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে পরিচিত পাঁচজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংসের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পেরেছে।
চারটি সূত্রের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রের আরও এক-তৃতীয়াংশের অবস্থা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। তবে বোমাবর্ষণের ফলে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বা মাটির নিচের সুড়ঙ্গ ও বাংকারের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। সংবেদনশীল তথ্য হওয়ায় তাঁরা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।
একটি সূত্র জানায়, ইরানের ড্রোন সক্ষমতার ক্ষেত্রেও গোয়েন্দাদের কাছে একই ধরনের তথ্য রয়েছে। তাঁদের মতে, ড্রোনেরও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস করার বিষয়ে ওয়াশিংটন নিশ্চিত।
এর আগে অপ্রকাশিত এ মূল্যায়ন থেকে স্পষ্ট যে ইরানের বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস বা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও তেহরানের কাছে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গোলাবারুদ মজুত রয়েছে। যুদ্ধ থামলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত বা চাপা পড়া অনেক ক্ষেপণাস্ত্র আবারও ব্যবহারের জন্য উদ্ধার করতে পারে।
সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যানুযায়ী, গত বুধবার পর্যন্ত মার্কিন হামলায় ইরানের ১০ হাজারের বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। তারা দাবি করেছে, ইরানের নৌবাহিনীর বড় জাহাজগুলোর ৯২ শতাংশই তারা ডুবিয়ে দিয়েছে।
গোয়েন্দাদের এই মূল্যায়ন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত বৃহস্পতিবারের বক্তব্যের ঠিক বিপরীত। ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের কাছে ‘খুব সামান্য রকেট অবশিষ্ট আছে’। তবে অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি রক্ষায় ভবিষ্যতের যেকোনো মার্কিন অভিযানে অবশিষ্ট ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন যে বড় হুমকি হতে পারে, ট্রাম্পের কথাতেও সেই সুর পাওয়া গেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি–সংলগ্ন ইরানের উপকূলে মার্কিন সেনা মোতায়েন করে সংঘাত আরও বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে প্রচারিত মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রণালি নিয়ে সমস্যা হলো—ধরা যাক, আমরা খুব ভালো কাজ করেছি। আমরা দাবি করলাম, তাদের ৯৯ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছি। কিন্তু ১ শতাংশ অবশিষ্ট থাকাও অগ্রহণযোগ্য। কারণ, ওই ১ শতাংশই ১০০ কোটি ডলার মূল্যের একটি জাহাজের খোলে আঘাত হানার জন্য যথেষ্ট।’
এ বিষয়ে পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ‘এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত তাদের এ অভিযান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বা তার চেয়ে দ্রুতগতিতে চলছে।
ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধি এবং ইরাক যুদ্ধে চারবার অংশ নেওয়া নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য সেথ মোলটন রয়টার্সের প্রাপ্ত তথ্যের ওপর মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন তিনি। মোলটন বলেন, ‘ইরান যদি চতুর হয়, তবে তারা তাদের কিছু সক্ষমতা এখনো বজায় রেখেছে। তারা তাদের সবটুকু ব্যবহার করছে না। তারা সুযোগের অপেক্ষায় ওত পেতে আছে।’
মার্কিন বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো ইরানের নৌবাহিনীকে ডুবিয়ে দিয়ে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করে দেশটির সামরিক শক্তিকে দুর্বল করা। সেই সঙ্গে ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাও এই অভিযানের উদ্দেশ্য।
‘প্রণালি নিয়ে সমস্যা হলো—ধরা যাক, আমরা খুব ভালো কাজ করেছি। আমরা দাবি করলাম যে তাদের ৯৯ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছি। কিন্তু ১ শতাংশ অবশিষ্ট থাকাও অগ্রহণযোগ্য। কারণ, ওই ১ শতাংশই ১০০ কোটি ডলার মূল্যের একটি জাহাজের খোলে আঘাত হানার জন্য যথেষ্ট।’মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত তাদের এই অভিযান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বা তার চেয়ে দ্রুতগতিতে চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানজুড়ে শুরু হওয়া এই যৌথ হামলার পরিকল্পনা আগেই করা হয়েছিল।
সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যানুযায়ী, গত বুধবার পর্যন্ত ইরানের ১০ হাজারের বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা দাবি করেছে, ইরানের নৌবাহিনীর বড় জাহাজগুলোর ৯২ শতাংশই তারা ডুবিয়ে দিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী কিছু ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে ইরানের অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোতে হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। তারা কেবল ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের মজুতের ওপর নয়, বরং এগুলো তৈরির শিল্পের ওপরও আঘাত হানার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে।
তবে ইরানের ঠিক কত শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ধ্বংস হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে এখনো অস্বীকৃতি জানিয়েছে সেন্ট্রাল কমান্ড।