
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে কোনো সামরিক সমাধান নেই। ইরানে হামলায় পেন্টাগনের ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতির মধ্যেই মার্কিন কেব্ল নিউজ নেটওয়ার্ক এমএস নাউকে এ কথা বলেছেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গত বছর সেটি পরীক্ষা করা হয়েছে। আমাদের স্থাপনাগুলোয় বিশাল হামলা চালানো হয়েছে। তারা আমাদের বিজ্ঞানীদের হত্যা ও গুপ্তহত্যা করেছে। কিন্তু তারা আমাদের কর্মসূচি শেষ করতে পারেনি।’
গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেহরানকে দীর্ঘদিনের পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে বিরোধ মেটানোর জন্য একটি চুক্তি করতে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন। একই সঙ্গে হুমকি দিয়ে বলেন, চুক্তি না করলে খুবই খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সপ্তাহে জেনেভায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, পক্ষগুলো প্রধান নীতিগুলোর বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে তার মানে এই নয় যে কোনো চুক্তি আসন্ন।
আরাগচি আরও বলেন, তাঁর কাছে একটি খসড়া পাল্টা প্রস্তাব রয়েছে, যা আগামী দুই–তিন দিনের মধ্যে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পর্যালোচনার জন্য প্রস্তুত হতে পারে এবং সপ্তাহখানেকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আরও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত জানুয়ারিতে তেহরান যখন প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করে ব্যাপক বিক্ষোভ দমন করছিল, তখন ট্রাম্প আবারও হামলার হুমকি দিতে শুরু করেন। সেই দমন-পীড়নের কথা উল্লেখ করে গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে ৩২ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটি একটি অত্যন্ত দুঃখজনক পরিস্থিতি। ইরানে হামলার বিষয়ে তাঁর হুমকির কারণেই দুই সপ্তাহ আগে দেশটির নেতৃত্ব ৮৩৭ জনের গণফাঁসির পরিকল্পনা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে।
ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গোষ্ঠী হরানার তথ্য অনুযায়ী, তারা ৭ হাজার ১১৪ জনের মৃত্যু যাচাই করেছে।
নিহতের সংখ্যা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর আরাগচি বলেন, ইরান সরকার ইতিমধ্যেই সাম্প্রতিক অস্থিরতায় নিহত ৩ হাজার ১১৭ জনের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে। তিনি এ ঘটনাকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এদিকে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এ অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য ও সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জেনেভা আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধে দাবি জানায়নি এবং ইরানও সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করার প্রস্তাব দেয়নি বলে আরাগচি এমএস নাউকে জানিয়েছেন।
আরাগচির মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র বা তা তৈরির সক্ষমতা থাকতে পারবে না এবং তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না।’