
ইরানের হামলায় কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে একজন নিহত ও ৬৩ জন আহত হয়েছেন। কুয়েতের সামরিক বাহিনী এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে এটি প্রথম বড় ধরনের কোনো প্রাণঘাতী হামলা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে বুধবার এ হামলার ঘটনা ঘটল। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রচেষ্টা আবারও সংকটে পড়ল।
আগের দিন রাতে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ‘অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করায়’ একটি তেল পরিবহনের জাহাজকে (ট্যাংকার) লক্ষ্য করে ‘হেলফায়ার’ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে যুক্তরাষ্ট্র। পরে মার্কিন বাহিনী জানায়, তারা ইরানের পাল্টা হামলা প্রতিহত করেছে। এ ছাড়া ইরানের ‘কেশম’ দ্বীপের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালিয়েছে তারা।
ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে হামলার জবাবে তারা বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের এই দাবি অস্বীকার করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গত মঙ্গলবার তারা ‘এম/টি লেক্সি’ নামের একটি খালি ট্যাংকারে হামলা চালায়। বতসোয়ানার পতাকাবাহী এই জাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে কুয়েতের কাছাকাছি হয়ে ইরানের ‘খারগ’ দ্বীপের দিকে যাচ্ছিল। তখন ট্যাংকারটির ইঞ্জিন বিকল করে দিতে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।
মূলত এ ঘটনা থেকেই নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত। সেন্টকমের দাবি, ট্যাংকারটিকে থামার জন্য ২৪ ঘণ্টা ধরে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু জাহাজের নাবিকেরা সেই সতর্কবার্তা শোনেননি। পরে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার পর ইরান কুয়েতের বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে ড্রোন হামলা চালায়।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৌদ আবদুল আজিজ আল-আতওয়ান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি একে ইরানের ‘অপরাধমূলক আগ্রাসন’ বলে বর্ণনা করেছেন। সৌদ বলেন, এই হামলার ফলে বিমানবন্দরের ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অনেকেই আহত হয়েছেন।
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ সব ধরনের বিমান চলাচল স্থগিত করেছে। এই বিমানবন্দরে নামার কথা ছিল—এমন ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই পরিস্থিতির জন্য কুয়েত ও বাহরাইনকে দায়ী করেছে। তেহরান বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলের দেশগুলোর ভূমি ও অবকাঠামো উপনিবেশের মতো ব্যবহার করছে। ইরান জোর দিয়ে বলেছে, গত রাতের এই হামলার জন্য কুয়েত ও বাহরাইনের নেতৃত্বই সরাসরি দায়ী।