
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় ওমান ‘বাধা হয়ে দাঁড়ালে’ দেশটিতে বোমা মারার হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগেও ট্রাম্প পারস্য উপসাগরের মিত্র দেশটিকে একই ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল একযোগে ইরানে হামলা শুরু করে। প্রায় ছয় মাস পূর্ণ হতে চলা এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় সময় সোমবার (১৭ আগস্ট) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ হুমকি দেন।
এদিকে ট্রাম্প বারবার ‘দ্রুত’ যুদ্ধ শেষ করা ও স্থায়ী শান্তি চুক্তির সম্ভাবনার কথা বলছেন। কিন্তু বাস্তবে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। যুদ্ধের আগে বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যেত। হামলার পর ইরান নৌপথটি কার্যত বন্ধ করে দেয়। ফলে এই পথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এই প্রণালির উত্তরে ইরান ও দক্ষিণে ওমান অবস্থিত। প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশ দুটি নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ইরান বলেছে, তারা হরমুজ ব্যবস্থাপনার জন্য ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ওমান যদি (যুদ্ধ বন্ধের) পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে আমরা তাদের ওপর ব্যাপক বোমা হামলা চালাব।’ এর আগে গত মে মাসে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে অনানুষ্ঠানিকভাবে তিনি হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘সঠিক আচরণ’ না করলে ওমানকে ‘উড়িয়ে দেওয়া’ হবে।
গত শুক্রবার এক বক্তৃতায় ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ ঘোষণা করার হুমকি দেন। ইরান এর তীব্র নিন্দা ও পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, হরমুজ দখলের চেষ্টা করলে ট্রাম্পের ‘পা ভেঙে দেওয়া’ হবে।