
ইসরায়েল থেকে জরুরি নয়, নিজেদের এমন সরকারি কর্মীদের দেশে ফেরার অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানে হামলার হুমকি এবং মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক প্রস্তুতির মধ্যে শুক্রবার এমন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
যুদ্ধ এড়ানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার এক দিন পরই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিল। শুরুতে এ আলোচনা ঘিরে কিছুটা আশাবাদ ছিল। তবে তেহরান স্পষ্ট জানায়, কোনো চুক্তি করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ‘অতিরিক্ত দাবি’ থেকে সরে আসতে হবে।
এমন এক সময়ে এই আলোচনা চলছিল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানে হামলার হুমকি দিচ্ছেন। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে মার্কিন বাহিনী।
বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র ইসরায়েলের উপকূলের কাছে। এরই মধ্যে দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ‘নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে’ জরুরি নয়, এমন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ইসরায়েল ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে।
দূতাবাসের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘যতক্ষণ বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু আছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইসরায়েল ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।’
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি শুক্রবার সকালে দূতাবাসের কর্মীদের একটি ই–মেইল পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, যাঁরা দেশে ফিরতে চান, তাঁদের ‘আজই’ তা করা উচিত।
ই–মেইলে তাঁকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘পরবর্তী সময়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে যাওয়া যাবে, এমন যেকোনো আসনের টিকিট জোগাড়ের চেষ্টা করুন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই দেশ ত্যাগ করা।’
এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন। ইরান চেয়েছে শুধু তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার ওপর জোর দিতে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে তাদের দেওয়া সমর্থনও সংকুচিত করতে চায়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্পের সমঝোতাকারী দল ইরানের কাছে তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস এবং তাদের কাছে থাকা সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানাবে।
কোনো দাবির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার বলেন, ‘এই পথে সফল হতে হলে অপর পক্ষকে অবশ্যই আন্তরিক ও বাস্তববাদী হতে হবে এবং যেকোনো ধরনের ভুল হিসাব–নিকাশ ও অতিরিক্ত দাবি এড়িয়ে চলতে হবে।’