সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বসবাস করা একটি ছোট্ট পরিবারের সকাল অন্যান্য সাধারণ দিনের মতোই শুরু হয়েছিল। পরিবারের সদস্য বলতে স্বামী-স্ত্রী আর সন্তানেরা। কিন্তু হঠাৎই সেদিন সকালবেলা এ পরিবারের শয়নকক্ষে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যার ফলে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়। স্বামী-স্ত্রী দুজনই দ্বারস্থ হন আদালতের।
দুবাইয়ের সংবাদপত্র আমিরাত আল ইউম–এর খবর অনুযায়ী, ঘটনার মূল দুই চরিত্রের একজন ইউরোপীয় স্ত্রী ও অন্যজন তাঁর আরব স্বামী। ঘটনার দিন সকালে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে শয়নকক্ষে ঢোকেন। সে সময় স্বামী ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। শব্দে ঘুম ভেঙে যাওয়ায় বিরক্ত স্বামী স্ত্রীকে বাচ্চাদের নিয়ে কক্ষটি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন।
কিছুক্ষণ পর স্ত্রী তাঁর পোশাক পরিবর্তন করতে আবারও শোবার ঘরে ঢোকেন। স্বামী আবার বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। ঝগড়া থেকে হাতাহাতি-মারামারি। এরপর পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আদালতে উপস্থিত হন দুজনই। ফলে শোবার ঘরের বিবাদ আদালতে ফৌজদারি মামলায় গড়ায়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দুজন দুই রকম বয়ান দেন। স্বামীর দাবি, স্ত্রী তাঁকে একটি বেল্ট দিয়ে আঘাত করলে এই বিবাদের শুরু। তিনি আরও দাবি করেন, এরপর স্ত্রী নিজে নিজে মাটিতে পড়ে যান এবং চিৎকার করে আহত হওয়ার অভিনয় করতে থাকেন।
অন্যদিকে স্ত্রী তদন্তকারীদের বলেছেন, তাঁর স্বামীই তাঁকে আক্রমণ করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঝগড়ার সময় তিনি ভীষণ আতঙ্কিত এবং নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবং পারিবারিক পরিবেশ বিবেচনা করে আদালত স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই দোষী সাব্যস্ত করেন। দুজনকেই করেন সমান ২ হাজার দিরহাম জরিমানা। রায়ে বলা হয়, বাড়ির ভেতরে শুরু হওয়ায় পারিবারিক বিবাদ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাড়ির বাইরে চলে যাওয়াকে আটকানো জরুরি। আদালত পরামর্শ দিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে পরিবারের মধ্যে সহনশীলতা ও আলোচনার পরিবেশ বাড়ানো প্রয়োজন।