
ইসরায়েলে গতকাল মঙ্গলবার ভোটের পর বুথফেরত জরিপে দেশটির আরব দলগুলোর ১৯টি আসনে জয়ী হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। এবার ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলিদের ভোট দেওয়ার হার কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল।
বুথফেরত জরিপের তথ্য বলছে, আরবদের নেতৃত্বাধীন প্রধান দল ‘জয়েন্ট লিস্ট’ এবং ‘রাআম’ বা ইউনাইটেড আরব লিস্ট এসব আসন জিততে পারে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ গতকাল জানিয়েছে, বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যে এবার ভোট দেওয়ার হার প্রায় ৮০ শতাংশ—যা ১৯৯৯ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
রাআম বা ইউনাইটেড আরব লিস্টের নেতা মনসুর আব্বাস বলেন, তিনি আশা করছেন, চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফলে তাঁর দলসহ নেতানিয়াহুবিরোধী জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পাবে।
আব্বাসের দল রাআম বর্তমানে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে পাঁচটি আসন ধরে রেখেছে। ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলে যে জোট সরকার ক্ষমতায় ছিল, তাঁর দল সেই জোটেও যোগ দিয়েছিল। আব্বাস আরও বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে—দুই সময়েই প্রধান দুই জোট তাঁর দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
আব্বাসের দল রাআম বর্তমানে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে পাঁচটি আসন ধরে রেখেছে। ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলে যে জোট সরকার ক্ষমতায় ছিল, তাঁর দল সেই জোটেও যোগ দিয়েছিল। আব্বাস আরও বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে—দুই সময়েই প্রধান দুই জোট তাঁর দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
‘আরবদের বাইরে রাখা যাবে না’
আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিঙ্কাস বলেন, আইজেনকটের দলের মতো দলগুলোর জন্য সরকার গঠন কঠিন হতে পারে। কারণ, নির্বাচনী প্রচারের সময় তারা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠন করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
তাদের এখন এর মূল্য দিতে হবে বলে মনে করেন পিঙ্কাস। তিনি বলেন, ‘যখন আপনার ভোটের প্রয়োজন হবে, শুধু তখন তাদের বিবেচনায় নেওয়া হবে এবং জোটে টানা হবে, এমনটা আর চলবে না। আরবদের বাইরে রাখা যাবে না।’
যখন আপনার ভোটের প্রয়োজন হবে, শুধু তখন তাদের বিবেচনায় নেওয়া হবে এবং জোটে টানা হবে, এমনটা আর চলবে না। আরবদের বাইরে রাখা যাবে না।অ্যালন পিঙ্কাস, ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত
নেতানিয়াহু ও তাঁর কট্টর ডানপন্থী জোট ভোটের দিন গতকাল শেষ মুহূর্তেও তাদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। তারা নিজেদের সমর্থকদের ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যে ভোট দেওয়ার হার বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও সতর্ক করে। আরব রাজনীতিকেরা এই কৌশলের নিন্দা করে একে বর্ণবাদী ও উসকানিমূলক বলে অভিহিত করেছিলেন।